“হাওয়াই চটি আর আসবে না, চটি চাটা বন্ধ করুন!” প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সরকারি আধিকারিকদের বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর!

বাঁকুড়ার সোনামুখীতে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আয়োজিত এক জনসভা থেকে রাজ্যের একশ্রেণির প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বন, পরিবেশ ও সমবায় দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিবাকর ঘরামী। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এখনও অনেক প্রশাসনিক আধিকারিক আছেন যাঁরা বিজেপি ও সরকারের কথা শুনছেন না। তাঁরা ভাবছেন আবার হাওয়াই চটি আসবে আর তাঁরা চটি চাটবেন। কিন্তু আপনারা জিভে তেল দিয়ে থাকলেও হাওয়াই চটি আর আসবে না।”

পরে নিজের এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি কিছু আধিকারিককে রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। কেউ সিপিএমের সভায় গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করছেন, তো কেউ আবার মিটিংয়ে লোক জমায়েত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই সমস্ত আধিকারিকদের ওপর সরকারের তরফ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। মন্ত্রীর সাফ কথা, হয় সরকারি আধিকারিক হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন, অথবা সরকারি পদ ছেড়ে সরাসরি রাজনীতিতে নেমে পড়ুন।

বৃহস্পতিবারের এই জনসভায় কেবল প্রশাসনিক আধিকারিকরাই নন, মন্ত্রীর পাশাপাশি বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর কড়া আক্রমণের নিশানা হয়েছিল বিরোধীরাও। তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে দিবাকর ঘরামী বলেন, “তৃণমূলের শুধু জোড়াফুলই নয়, মূলটিই পচে গিয়েছে। তাই আর কোনোদিনই তৃণমূলকে ক্ষমতায় দেখা যাবে না। তৃণমূল ইতিমধ্যে ইতিহাস হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে দেখতে হবে যে তৃণমূল বলে আদতে কোনো রাজনৈতিক দল ছিল কি না।” অন্যদিকে, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সিপিএমের নেতাদের একাংশকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তাঁদের কার্যকলাপের সমালোচনা করেন। অন্নপূর্ণা যোজনার সাফল্য উদযাপনের এই মঞ্চ থেকেই শাসক দলের মন্ত্রী ও সাংসদের এমন আক্রমণাত্মক ও হুঙ্কারপূর্ণ বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও উত্তাপের সৃষ্টি করেছে।