‘সবাই বিজেপির দালাল!’ জেলের বাইরে এসেই ভোট কারচুপির বিস্ফোরক দাবি করলেন কংগ্রেস প্রার্থী!

রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে চাঞ্চল্যকর মোড়! উপনির্বাচনের ভোটগণনা এগোতেই রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে কংগ্রেসের অবস্থান ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। ব্যালট পেপারের গণনা শেষে এবং দ্বিতীয় রাউন্ডের ট্রেন্ড স্পষ্ট হতেই দেখা যাচ্ছে যে, শাসক শিবিরকে পেছনে ফেলে দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে হাত শিবির। নেতৃত্বের দাবি, এই ফল আদতেই ম্যাজিকের সমতুল্য। যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, তবে এই কেন্দ্রগুলিতে কংগ্রেসই প্রথম স্থান অধিকার করত বলে জোরালো দাবি তুলেছে প্রদেশ নেতৃত্ব।

রেজিনগর কেন্দ্রটি একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান গণনায় দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি ৭১০টি ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি সরাসরি ভোট লুঠের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর তীব্র মন্তব্য, “ভোট যদি ম্যানিপুলেট করে নেওয়া হয়, তবে কীভাবে বোঝা যাবে? সাধারণ মানুষ শাসকদলের বিপক্ষে রয়েছে। কংগ্রেস ছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কারও নেই। বাকিরা সবাই বিজেপির দালাল। কে কার সঙ্গে আন্ডারটেবিল অ্যাডজাস্ট করবে, সেটাই আসল খেলা।”

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াই ছিল আরও বেশি নাটকীয়। নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর অনুপস্থিতে নির্বাচনে প্রচারের পুরো দায়িত্ব সামলেছিলেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। গণনার দিন সকালে জামিনপ্রাপ্ত প্রার্থী মিলন প্রধান আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষ অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই মানুষ কংগ্রেসে ভোট দিয়েছেন। সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটে জয়ী হতাম।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলেছেন।

কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, ভোট কারচুপি, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের মাঝেই এই অবস্থান প্রমাণ করে যে রাজ্যের সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে কংগ্রেসকেই বেছে নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গ্রেফতারি ও আইনি জটিলতার পরেও রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের এই শক্ত প্রতিরোধ বাংলার আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন ও শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।