কোষাগারে ৮০০ কোটি তোলার লক্ষ্য! পুজোর আগে বকেয়া করদাতাদের জন্য বাম্পার ওয়েভার স্কিম আনল কেএমসি

রাজ্য কোষাগার চাঙ্গা করতে এবং রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে পুজোর মুখেই এক যুগান্তকারী ও মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা কর্পোরেশন। বকেয়া সম্পত্তি কর মেটাতে করদাতাদের জন্য বড়সড় ছাড়ের ঘোষণা করলেন পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। শুক্রবার থেকেই চালু হয়েছে এই বিশেষ ‘ওয়েভার স্কিম’ (Waiver Scheme)। কর্পোরেশন সূত্রে খবর, বর্তমানে শহরে নথিভুক্ত বকেয়া সম্পত্তি করদাতার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৮৮ জন। সুদ ও জরিমানা মিলিয়ে বকেয়ার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮৫৪.২৯ কোটি টাকা। যার মধ্যে আসল কর ৩১৩৮.৭৬ কোটি টাকা, সুদের পরিমাণ ৩৩১৪.১৩ কোটি টাকা এবং জরিমানার অঙ্ক ৪০০.৩৮ কোটি টাকা।

এদিন প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানান, সমস্ত সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত মালিকানার সম্পত্তি কিংবা সরকারি আন্ডারটেকিং সম্পত্তিতে বকেয়া করের উপর সুদ ও পেনাল্টিতে পুরো ১০০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে যে সমস্ত সম্পত্তিতে বসবাস ও ব্যবসা একসঙ্গে চলে, সেখানে সুদের উপর ৮০ শতাংশ এবং পেনাল্টিতে ৯৯ শতাংশ ছাড় মিলবে। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুদের উপর ৭০ শতাংশ এবং পেনাল্টিতে ৯৯ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৭ অর্থাৎ ছ’মাসের মধ্যে বকেয়া মেটাতে চাইলে এবং কিস্তির সুবিধা নিলেই মিলবে এই বিশেষ ছাড়। এমনকি যে সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে আইনি মামলা চলছে, সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিলেই তারাও এই স্কিমের সুবিধা নিতে পারবেন।

করদাতাদের সুবিধার্থে কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি বিশেষ কিউআর কোড (QR Code) প্রকাশ করা হচ্ছে, যা স্ক্যান করে সরাসরি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বিভাগের প্রতিটি অফিসে সশরীরে গিয়েও আবেদন করার সুযোগ থাকছে। প্রতিটি কর আদায় কেন্দ্রে বিশেষ সহায়ক ডেস্ক ও এলাকায় এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণ, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ন, কর্মী স্বল্পতা এবং সাম্প্রতিককালে কর্পোরেশনের সার্ভারে সাইবার অ্যাটাকের জেরে সম্পত্তি কর আদায়ের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। যার ফলে চলতি অর্থবর্ষে কর খাতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয়। এই সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবং পুরভোটের আগে কোষাগারের হাল ফেরাতেই প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ৮০০ কোটি টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই ওয়েভার স্কিম চালু করেছে কলকাতা কর্পোরেশন।