‘হিরো হতে গিয়ে আসল অভিনেতা হারিয়ে ফেলো না!’ প্রথম সাক্ষাতেই শাহরুখকে ধমক দেন নানা পাটেকর, প্রয়াণে কান্নাভেজা পোস্ট বাদশাহর

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ ও বলিপাড়া। প্রবীণ এই কিংবদন্তিকে হারিয়ে অনুরাগী থেকে শুরু করে সহ-শিল্পীরাও আজ বাকরুদ্ধ। এবার নানাজির সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অমূল্য স্মৃতি রোমন্থন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক অত্যন্ত আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর এক শিক্ষণীয় ও অদ্ভুত ঘটনার কথা তুলে ধরে শাহরুখ জানালেন—নানা পাটেকর এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি কখনও তোষামোদ করতেন না, মুখের ওপর খাঁটি সত্যি কথাটা বলতে ভালোবাসতেন।
‘হিরোর মতো চুল বানিও না… তুমি অভিনেতা!’
নানা পাটেকরের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করে কিং খান লেখেন, “যখন প্রথম ওঁর সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে আমি বারবার চুলে হাত বুলোচ্ছিলাম। ওমনি তিনি আমার হাতটা ঝটকা মেরে সরিয়ে দিয়ে কড়া সুরে বলেছিলেন— ‘হিরোর মতো চুল বানিও না… তুমি একজন অভিনেতা!'”
শাহরুখ আরও লেখেন, নানা কখনও তোষামোদ করতেন না বা যা শুনতে ভালো লাগে তা বলতেন না। তিনি ঠিক সেটাই বলতেন, যা একজন শিল্পীর শোনার প্রয়োজন ছিল। “একদম সোজাসাপ্টা, রুক্ষ, শতভাগ সৎ এবং ওঁর মুখে ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর হাসি।”
ভালোবাসা প্রকাশের অদ্ভুত ধরন ও ক্যারম খেলা
শাহরুখ জানান, নানাজির ভালোবাসা প্রকাশের ধরনটাই ছিল ভীষণ আলাদা ও স্পেশাল। “তিনি আগে আপনাকে কষে ধমক দেবেন, গালমন্দ করবেন, আর ঠিক তার মাঝপথেই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি আসলে তাঁকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন! তিনি আমাকে বড্ড ভালোবাসতেন, আর আমিও তাঁকে অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিতাম।”
শাহরুখের কাছে নানা কেবল একজন সহ-অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন মেন্টর, শিক্ষক, কড়া সমালোচক এবং বিশ্বস্ত বন্ধু। মজার ছলে শাহরুখ উল্লেখ করেন, শুটিংয়ের বিরতিতে ক্যারম খেলায় নানাজির কাছে শাহরুখ সহ সবাই হেরে যেতেন, আর নানা সেই জয়ের আনন্দ শিশুদের মতো উপভোগ করতেন।
‘রাজু বন গয়া জেন্টালম্যান’ থেকে শেষ উপদেশ
নয়ের দশকের শুরুতে ‘রাজু বন গয়া জেন্টালম্যান’ (Raju Ban Gaya Gentleman) ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাঁদের মধ্যে এক গভীর সখ্য গড়ে উঠেছিল। সেদিনের কথা মনে করে শাহরুখ আফসোস করে লেখেন, “নানা, তোমার সেই তীব্রতা, হাসি, পাগলামি ও ভালোবাসা সবসময় সঙ্গে থাকবে। খুব আফসোস হচ্ছে, যদি আরও কিছুটা সময় পেতাম! আরও একটা কড়া তর্ক, এক কাপ চা আর শেষ এক রাউন্ড ক্যারম খেলার সুযোগ যদি পেতাম!”
ইনস্টাগ্রাম পোস্টের শেষে কিং খান লেখেন, সমগ্র ভারতবাসীর হৃদয়ে নানা পাটেকর এক অপূরণীয় শূন্যতা রেখে গিয়েছেন। নানাজির সেই অমর উপদেশ— ‘হিরো বনে কে চক্কর মে অভিনেতা মত খোনা’ (হিরো সাজতে গিয়ে নিজের ভেতরের অভিনেতাকে হারিয়ে ফেলো না)—তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের হৃদয়ে আগলে রাখবেন।