রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ধারণাও ভুল প্রমাণিত! দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ভয়ঙ্কর আশঙ্কার কথা শোনাল আর্থিক সমীক্ষা

দেশের মূল্যবৃদ্ধির বর্তমান ঝুঁকি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র পূর্ব ধারণার চেয়েও অনেক বেশি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ‘সিস্টেমেটিক্স ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিজ’-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আগামী ত্রৈমাসিকগুলোতে মূল্যবৃদ্ধির হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং রিয়েল ইন্টারেস্ট রেট অন্তত ১ শতাংশে ফিরিয়ে আনতে আরবিআইকে পুনরায় সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। বর্তমান ৫.৫০ শতাংশ রেপো রেট ১০০ থেকে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬.৫ থেকে ৭ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ওপর খরচ বাড়ার চাপ যে হারে বাড়ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বর্তমান হিসেবে তার সঠিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আরবিআইয়ের নিজস্ব সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সাধারণ মানুষের মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশা গড়ে ৯.১ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যা সাধারণ মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়ে অনেকটাই বেশি। উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর কাঁচামালের খরচ এক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় জোগানের ক্ষেত্রে গুরুতর চাপের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ কোম্পানিগুলি এই বাড়তি খরচের পুরোটা ক্রেতাদের ওপর চাপাতে না পারায় তাদের গ্রস মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ভর্তুকি এবং তেল কোম্পানিগুলোর লোকসানের কারণে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব এখনও বাজারে সেভাবে অনুভূত হচ্ছে না। তবে এই সহায়তা কমতে শুরু করলেই আগামী মাসগুলোতে মূল্যবৃদ্ধি আরও দ্রুত গতিতে বাড়বে। এই টানা মূল্যবৃদ্ধি এবং সুদের হার বৃদ্ধির ফলে শেয়ার বাজার জোড়া বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। চড়া সুদের জেরে একদিকে যেমন ইক্যুইটি ভ্যালুয়েশন কমবে, তেমনই অন্যদিকে কোম্পানিগুলির লাভও ব্যাপক ধাক্কা খাবে। সবমিলিয়ে অর্থনীতির এই জটিল পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।