‘বিয়েতে না করলেই আত্মহত্যায় প্ররোচনা নয়!’ লিভ-ইন সঙ্গীর মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ

লিভ-ইন সঙ্গীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করা এবং এর পরবর্তীতে সেই সঙ্গীর আত্মহত্যার ঘটনা কোনোভাবেই ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ (Abetment to Suicide) বলে গণ্য হতে পারে না। এক মামলার তাৎপর্যপূর্ণ শুনানিতে এমনই নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালে তেলঙ্গানায়। দীর্ঘদিন লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার পর তা ভেঙে গেলে এক তরুণী চরম পথ বেছে নেন এবং আত্মহত্যা করেন। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃত তরুণীর পরিবারের তরফে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ তুলে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। পুলিশ তরুণীর প্রাক্তন সঙ্গী, তাঁর বাবা-মা, বোন সহ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও মামলা খারিজ

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর হাইকোর্ট ঘুরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ অভিযুক্ত যুবক ও তাঁর পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি প্রক্রিয়া এক ধাক্কায় সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়।

শীর্ষ আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানায়, অভিযোগকারী পক্ষের সমস্ত লিখিত বয়ান ও দাবিকে যদি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও অভিযুক্তদের এমন কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কাজ প্রমাণিত হয় না, যা ওই তরুণীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য বা প্ররোচিত করেছিল। কেবল বিয়ে করতে অসম্মতি জানানো বা সম্পর্ক ছেদ করা আত্মহত্যার প্ররোচনা হিসেবে আইনিভাবে সিদ্ধ নয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সমাজে লিভ-ইন সম্পর্কের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আইনি দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।