কম বয়সেই চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে? কেমিক্যাল ছাড়াই রান্নাঘরের ৫ টোটকায় গোড়া থেকে কালো হবে চুল!

বয়স বাড়লে চুলে পাক ধরাটা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম। কিন্তু বর্তমান যুগে অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং বায়ুদূষণের কারণে কম বয়সেই অনেকের চুল পেকে সাদা হয়ে যাচ্ছে। এই অকালপক্বতা বা প্রি-ম্যাচিউর গ্রেইং তরুণ-তরুণীদের কাছে এক বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকা চুল ঢাকতে অনেকেই বাজারচলতি কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার কালার ব্যবহার করেন, যা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে চুলের আরও মারাত্মক ক্ষতি করে। তবে কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছাড়াই রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।
১. নারকেল তেল ও কারিপাতার মিশ্রণ নারকেল তেলের সঙ্গে এক মুঠো কারিপাতা ফুটিয়ে নিন, যতক্ষণ না পাতাগুলো কালো হয়ে আসে। তেলটি ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিয়ে মাথার ত্বকে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। কারিপাতায় থাকা বিশেষ উপাদান ও ভিটামিন বি চুলের মেলানিন উৎপাদন বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে চুল অকালে পেকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আমলকী আমলকী ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য এক কথায় মহৌষধ। কাঁচা আমলকীর রস বা আমলকীর গুঁড়ো নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং প্রাকৃতিক কালো রং বজায় থাকে।
৩. লিকার চা দিয়ে হেয়ার রিন্স ব্ল্যাক টি বা কড়া লিকার চা চমৎকার প্রাকৃতির ডাই হিসেবে কাজ করে। লিকার চা বানিয়ে তা ঠান্ডা করে নিন। শ্যাম্পু করার পর সেই জল দিয়ে চুল ধুয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে হালকা জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল যেমন চকচকে হবে, তেমনই পাবে সুন্দর প্রাকৃতিক কালো আভা।
৪. পেঁয়াজের রসের ম্যাজিক পেঁয়াজের রসে থাকা বিশেষ এনজাইম চুলের মূল পিগমেন্ট বা রং ধরে রাখতে দারুণ কাজ করে। পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এটি ব্যবহারে অকালপক্বতা থেকে মুক্তি মিলবে।
৫. মেহেন্দি ও জবা ফুলের পেস্ট রাসায়নিক রঞ্জকের বদলে প্রাকৃতিক মেহেন্দি গুঁড়োর সঙ্গে জবা ফুলের পেস্ট মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। এটি চুলে কোনো প্রকার ক্ষতি না করে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাকৃতিক রং প্রদান করে।
কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছাড়াই ঘরোয়া এই সহজ উপায়গুলো মেনে চললে চুলে পাকা ধরার প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনই আপনার চুল হয়ে উঠবে আরও ঘন, মজবুত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।