‘সত্তরের দশকে যারা এসেছিলেন সবাইকে ফেরাতে পারবেন?’ অনুপ্রবেশকারী মামলায় রাজ্যকে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের!

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কিংবা গত শতকের সাতের দশকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে এসেছিলেন বহু মানুষ। তবে যাঁরাই সীমান্ত পার হয়ে এসেছেন, তাঁদের সবাইকে কি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো আদেও সম্ভব? এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে দু’মাস ধরে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রেখে দেশছাড়া করার নির্দেশের শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে ঠিক এই প্রশ্নই তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।
সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে এক ব্যক্তিকে প্রায় দু’মাস ধরে আটকে রাখা এবং আইনগত প্রক্রিয়া না মেনে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট ওই ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে ভারত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পুরো প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তোলেন।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
শুনানিকালে রাজ্যকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, “১৯৭০-এর দশকে যাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন, তাঁদের সবাইকে কি আপনারা ফেরত পাঠাতে পারবেন? সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে গিয়ে দেখুন, বাস্তব পরিস্থিতিটা ঠিক কী এবং এটি করা কি আদেও সম্ভব?”
একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সঠিক ও যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ না করে কোনও নাগরিক বা ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন এভাবে আটকে রাখা যায় না। বিচারক বলেন, “যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনে কীভাবে কাউকে দুই মাস ধরে আটকে রাখা সম্ভব?” যে নথির ওপর ভিত্তি করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট।
রাজ্য সরকারের সওয়াল
রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, ওই ব্যক্তি জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র জোগাড় করেছিলেন। তাঁর থেকে উদ্ধার হওয়া ভুয়া নাগরিকত্ব নথির ওপর ভিত্তি করেই তাঁকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মামলার পরবর্তী নির্দেশ
সব পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, এই বিষয়টি শোনার সম্পূর্ণ বিচার বিভাগীয় এক্তিয়ার তাঁর বেঞ্চের নেই। তবে মামলাটি সঠিক জায়গায় স্থানান্তরিত হওয়ার আগে পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে দেওয়া রাজ্য সরকারের বহিষ্কারের আদেশে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-এর এজলাসে এই হাই-প্রোফাইল মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।