বাংলায় ফের এনআইএ-র বিরাট অভিযান! জঙ্গি সন্দেহে রাজ্য থেকে গ্রেফতার আরও ১, উদ্ধার গোপন ডিজিটাল ডিভাইস

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-র শাখা সংগঠনের মাধ্যমে ভারতজুড়ে নাশকতার বড়সড় ছক বানচাল করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। রবিবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মেমরি কার্ডসহ বেশ কিছু সন্দেহজনক ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি-র এক শীর্ষ নেতা ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লাহ ভারতের জমিতে সংগঠনের বিষবাষ্প ছড়াতে ‘ইমাম মাহমুদের কাফিলা’ (আইএমকে) নামে একটি গোপন ছায়া সংগঠন গড়ে তোলে। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্যই ছিল পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উগ্র চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া। ধৃত ব্যক্তি মূলত অল্পবয়সী তরুণদের বিভ্রান্ত করে, চরমপন্থী মতাদর্শের পাঠ দিয়ে এবং মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে দলে টানার কাজ করত।
তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্তরা অতি গোপনে বৈঠক করা, ধর্মীয় উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো এবং ভারতে নিষিদ্ধ চরমপন্থী বইপত্র বিতরণ করত। এমনকি ভারত-বিরোধী বিষাক্ত প্রচার চালনা ও সদস্যদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের প্রায় ১৬টি স্থানে একযোগে মেগা তল্লাশি চালিয়ে এই একই ষড়যন্তের সঙ্গে যুক্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। তারও আগে গত ২৫ জুন এনআইএ-র গুয়াহাটির বিশেষ আদালতে ১১ জনের বিরুদ্ধে ‘ইউএপিএ’ (UAPA) ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় চার্জশিট পেশ করা হয়। রবিবারের গ্রেফতারি সেই ধারাবাহিক অভিযানেরই এক বড় সাফল্য। এই নেটওয়ার্কের শেকড় কতদূর ছড়ানো রয়েছে, তা জানতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা ধৃতকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।