‘চিনের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র আর ফাইটার জেটের ঘাটতি নিয়ে বড় বার্তা IAF প্রধানের! বারাণসীতে কবে বসছে বায়ুসেনার এয়ার শো-র মেগা আসর?’

আজ, ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের ৯৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। ব্রিটিশ আমলে ১৯৩২ সালে ‘রয়েল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই বাহিনী ১৯৫০ সালে নামের থেকে ‘রয়েল’ শব্দ বাদ দিয়ে স্বাধীন ভারতের আকাশ সুরক্ষার মূল স্তম্ভ হয়ে ওঠে। বর্তমান যুগের আকাশ সুরক্ষা, সুদূর প্রসারী কৌশলগত প্রতিরোধ এবং মানবিক সেবায় বায়ুসেনার এই দীর্ঘ পথ চলা এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। চলতি বছরের থিম— “ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স: অচুক, অভেদ্য এবং সটিক”।
এবারের বায়ুসেনা দিবসের মূল আকর্ষণ হিসেবে আগামী ২২, ২৩ এবং ২৫ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে এক বর্ণাঢ্য ফ্লাই-পাস্ট ডিসপ্লে আয়োজিত হতে চলেছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর এয়ার চিফ মার্শাল এ.পি. সিং এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাদের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কিছু কম হতে পারে, কিন্তু আমরা কোনো অংশেই দুর্বল নই।” বর্তমানে যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও, বায়ুসেনার অভিজ্ঞতা ও মারকুটে মনোভাব সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বালাকোট হামলা, লাদাখ সীমান্ত সংঘাত থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো মিশনে ভারতীয় বায়ুসেনা নিজেদের অদম্য শক্তি ও নির্ভুল নিশানার প্রমাণ বারবার দিয়েছে।
বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্তমানে এসইউ-৩০ এমকেআই ফাইটার জেটগুলোকে ‘সুপার সুখোই’ মানে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাফেল যুদ্ধবিমানের মেটিওর ও স্ক্যাল্প মিসাইল শত্রুর বুকে ত্রাস সৃষ্টি করছে। তবে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মিগ-২১ ও মিগ-২৯-এর মতো পুরোনো বিমানগুলির রিটায়ারমেন্ট এবং নতুন প্রজন্মের তেজস এমকে-১এ ও এএমসিএ (AMCA) যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। চিনের লাগাতার সামরিক প্রস্তুতি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দাপট সত্ত্বেও ভারতীয় বায়ুসেনার অদম্য সাহসী যোদ্ধারা দেশের আকাশসীমা রক্ষায় সর্বদাই সদা জাগ্রত ও প্রস্তুত।