‘পয়সা কম, লাভ বাম্পার! চিত্রকূটের এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায় নামলে উপচে পড়বে ভিড়!’

বুন্দেলখণ্ডের চিত্রকূট অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবের জন্য প্রতিকূল হিসেবে পরিচিত। এখানকার সীমিত সুযোগের কারণে বহু মানুষ অন্য শহরে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন। তবে যাঁরা নিজ শহরেই কিছু করে দেখাতে চান, তাঁদের জন্য কাঠের খেলনার ব্যবসা এক দারুণ এবং লাভজনক বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের ‘এক জেলা, এক পণ্য’ (ODOP) প্রকল্পের অধীনে চিত্রকূটের ঐতিহ্যবাহী কাঠের খেলনা ও কাষ্ঠশিল্প দেশজুড়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে। চিত্রকূট একটি প্রধান ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সারা বছর দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত ও পর্যটকদের সমাগম ঘটে। ফলে ধর্মীয় ও আকর্ষণীয় নকশার কাঠের খেলনার চাহিদা এখানে আকাশছোঁয়া।

জেলা শিল্প কর্মকর্তা চন্দ্র প্রকাশ প্যাটেল লোকাল ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, এই ব্যবসা শুরু করার আগে বাজার সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করা অত্যন্ত জরুরি। এমন একটি এলাকা বা দোকান নির্বাচন করা উচিত যেখানে পর্যটক ও ক্রেতাদের যাতায়াত সবচেয়ে বেশি থাকে। একই সঙ্গে কোন ধরনের খেলনার বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করাও সাফল্যের চাবিকাঠি। পাশাপাশি, কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাও আবশ্যিক। চিত্রকূটে কাঠের খেলনা তৈরির জন্য মূলত ‘কুরাইয়া কাঠ’ ব্যবহার করা হয়, যা সবসময় সহজে পাওয়া যায় না। তাই ব্যবসা নামার আগেই কাঁচামালের সঠিক উৎস এবং ভালো কারুশিল্পের ব্যবস্থা রাখা দরকার।

নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে রাজ্য সরকার নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। ওডিওপি প্রকল্পের আওতায় যোগ্য উদ্যোক্তাদের ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ওপর সরাসরি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি বা সাবসিডি প্রদান করা হয়। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসার প্রচার ও প্রসারের জন্য উদ্যোক্তাদের রাজ্য ও জাতীয় স্তরের বিভিন্ন বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি চিত্রকূটের তিন ব্যবসায়ী নয়ডার ইউপি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নিজেদের স্টল দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে এই শিল্প তুলে ধরেছেন।

প্রাথমিকভাবে কাঠের খেলনার ব্যবসা শুরু করতে আনুমানিক ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার মতো পুঁজির প্রয়োজন হতে পারে, যার মধ্যে কাঠ, সাজসজ্জার সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত। তবে নতুনদের জন্য জেলা শিল্প দপ্তর বিনামূল্যে টুল কিট এবং বিশেষ প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করে থাকে। সরকারি সাহায্য এবং সঠিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকলে চিত্রকূটের এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে যে কেউ স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।