‘লাটপ্যাডের মায়া নেই, নজর শুধু মিড-ডে মিলের চালে!’ সরকারি স্কুলে দুঃসাহসিক চুরিতে হতবাক গ্রামবাসীরা!

ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খरसावां জেলার নিমডিহ ব্লকের পিসকি গ্রামের ‘উৎক্রমিত মধ্য বিদ্যালয়’-এ এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। রাতের অন্ধকারে স্কুলের মূল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুষ্কৃতীরা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দামী ল্যাপটপ, ট্যাব বা মিউজিক সিস্টেমে হাত না দিয়ে চোরেরা শুধুমাত্র রান্নাঘরের মিড-ডে মিলের চাল, গ্যাস সিলিন্ডার ও রান্নার বাসনপত্র লুট করে চম্পট দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে। প্রতিদিনের মতো নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে এসে সহকারী শিক্ষিকা অলিম ধনওয়ার দেখতে পান যে বিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ রান্নাঘর ও কার্যালয়ের তালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও গ্রাম প্রধান তথা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গৌরী শঙ্কর সিংকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, প্রধান গেটের কাছেই বস্তাবন্দী একটি গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রাখা হয়েছে। এছাড়া অফিসের তিনটি আলমারি খোলা থাকলেও ভেতরের সমস্ত দামী ইলেকট্রনিক সামগ্রী অক্ষত ও সুরক্ষিত রয়েছে।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, এই স্কুলে প্রায় ১২৫ জন শিশু পড়াশোনা করে। দুষ্কৃতীরা প্রধানত মিড-ডে মিলের রান্নাঘরটিকে টার্গেট করে। সেখান থেকে চার বস্তা চাল, দুটি গ্যাস সিলিন্ডার এবং রান্নার বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষক শিবরাম গোপ জানিয়েছেন, আনুমানিক রাত ২টো থেকে ৩টে নাগাদ এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পরেই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি, বিআরসি নিমডিহ এবং স্থানীয় নিমডিহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পিসকি গ্রামের এই স্কুলে এর আগেও চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এটি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় দফার চুরি। বারবার এমন ঘটনায় পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষ বুধবার ১২৫ জন শিশুর জন্য বিকল্প উপায়ে মিড-ডে মিল চালুর ব্যবস্থা করেছেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।