‘মাঠেই নামল না দল, ওয়াকওভার দিল সিকিম!’ আইনি জটে পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় বিপর্যয়ের মুখে কোন রাজ্য?

৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ভিনু মানকড় ট্রফিতে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেট। ভুবনেশ্বরের কেআইআইটি (KIIT) ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিকিমের বিরুদ্ধে অরুণাচল প্রদেশের উদ্বোধনী ম্যাচটি খেলার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে অরুণাচল প্রদেশ দল নির্ধারিত দিনে মাঠে নামতেই পারেনি। এর জেরে বিসিসিআই-এর ১৬.২.১.২ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ রেফারি প্রতিপক্ষ সিকিম দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
এই নজিরবিহীন ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অরুণাচল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অন্তরে চলা তীব্র ক্ষমতা দখল ও আইনি বিরোধ। জানা গেছে, রাজ্যের ৬টি জেলা স্তরের ক্রিকেট সংস্থা অরুণাচল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কার্যনির্বাহী নির্বাচনে নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গৌহাটি হাইকোর্টের ইটানগর বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানায়। এই মামলার জেরে গত কয়েক মাস ধরে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যকারিতার ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ (স্টেম অর্ডার) বহাল রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এই সংক্রান্ত শুনানি হলেও এখনও পর্যন্ত আদালত চূড়ান্ত কোনো রায় ঘোষণা করেনি।
এই বিষয়ে মুখ খুলে বিসিসিআই-এর সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আইনি জট ও চূড়ান্ত রায় না আসার কারণে অরুণাচল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে বর্তমানে কোনো বৈধ কার্যনির্বাহী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেই। আর সেই কারণেই জুনিয়র পুরুষ বিভাগে ভিনু মানকড় ট্রফির মতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য দল গঠনের কোনো প্রস্তুতি বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না। ফলে দল পাঠাতে ব্যর্থ হয় রাজ্য অ্যাসোসিয়েশন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আগামী ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা মর্যাদাপূর্ণ রঞ্জি ট্রফিতে কি অরুণাচল প্রদেশ অংশ নিতে পারবে? এই প্রসঙ্গে দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন যে, রঞ্জি ট্রফির ক্ষেত্রে কী হবে তা নিয়ে বোর্ডের এই মুহূর্তে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। সমস্ত পক্ষই আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন, তাই বিসিসিআই-এরও এখানে আইনগতভাবে হস্তক্ষেপ করার কোনো এক্তিয়ার নেই। আদালতের সবুজ সঙ্কেত না মেলা পর্যন্ত অরুণাচল ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে রয়েছে।