‘জরুরি অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে গত ৭২ ঘণ্টা!’ নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ, মুক্তি পেতেই বিস্ফোরক CJP নেতা

গত ৭২ ঘণ্টার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পুলিশি ধরপাকড়ের পর মুক্তি পেয়েই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নেতারা। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। গত কয়েক দিনে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার ইতিহাসকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাঁরা।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিতর্ক এবং বিক্ষোভের আবহে শনিবার প্রিভেনটিভ অ্যারেস্টে আটক হওয়া সিজেপি নেতারা রবিবার মুক্তি পান। এর পরই সাংবাদিক সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “গত ৭২ ঘণ্টায় এই দেশ স্বৈরতন্ত্রের নগ্ন রূপ দেখেছে। নরেন্দ্র মোদি ভারতের লজ্জা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এমন ভূমিকা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।”
জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে আশুতোষ আরও বলেন, “১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা আমরা শুধু বইয়ে পড়েছি বা বাবা-মায়ের মুখে শুনেছি। কিন্তু গত ৭২ ঘণ্টায় নরেন্দ্র মোদী এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যা সেই জরুরি আমলের স্মৃতিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়ও তো দেশের শয়ে শয়ে ট্রেন বাতিল করার প্রয়োজন পড়েনি! অথচ আজকের এই স্বৈরাচারী শাসক এতটাই ভীত ও কাপুরুষ যে, সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে গতকাল শত শত ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার জন্যই কেন্দ্র সরকার এই দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আশুতোষ। তাঁর কথায়, “নরেন্দ্র মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করবেন। তিনি যেন প্রমাণ করে দিয়েছেন, রাজার প্রাণ তোতাপাখির মধ্যেই রয়েছে।”
উল্লেখ্য, আটকের সময় দলের অন্য নেতা অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমার প্রয়াণ ও তাঁর ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্ত নিয়েও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের তীব্র অভিযোগ তোলেন নেতারা। সমস্ত দমনপীড়ন ও বাধা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই লড়াই থামবে না এবং আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন CJP নেতৃত্ব।