চলন্ত বিমানে ভয়াবহ আতঙ্ক! পাওয়ার ব্যাংকে হঠাৎ আগুন, দিল্লি-চেন্নাই ইন্ডিগো ফ্লাইট জরুরি অবতরণ হায়দরাবাদে

আকাশপথে বড় দুর্ঘটনা এড়াল ইন্ডিগো! পাওয়ার ব্যাংকে আগুন লেগে মাঝ আকাশে জরুরি অবতরণ বিমানের
মাঝ আকাশে হঠাৎ এক টুকরো আগুন আর মুহূর্তের মধ্যে কেবিনের ভেতর ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া—ভয়ঙ্কর এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকলেন দিল্লির একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা। রবিবার দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানে হঠাৎই এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। ফ্লাইটটি চেন্নাইয়ের পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, এদিন দিল্লি থেকে ৬ই ৬১১৫ (6E 6115) নম্বরের ইন্ডিগো বিমানটি চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বিমানের ভেতরে থাকা একটি লাগেজ কম্পার্টমেন্ট বা ওভারহেড বিন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখতে পান ক্রু সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক যাত্রীর বহন করা পোর্টেবল পাওয়ার ব্যাংকটি থেকে শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মুহূর্তের মধ্যে বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ক্রু সদস্যরা চরম পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে অনবোর্ড ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
এদিকে, যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পাইলট আর ঝুঁকি নেননি। তিনি বিমানটিকে চেন্নাই না নিয়ে গিয়ে নিকটবর্তী হায়দরাবাদের শামশাবাদের বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিমানটি নিরাপদে হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের অক্ষত অবস্থায় নিচে নামিয়ে আনা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনায় বিমানে থাকা কোনো যাত্রী বা কর্মী আহত হননি। তবে কীভাবে ওই পাওয়ার ব্যাংকে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স। এই ঘটনার পর বিমানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও পাওয়ার ব্যাংক বহন সংক্রান্ত নিরাপত্তা এবং চেকিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।