“চিনচিনিয়ে বাড়ছে ঋণের বোঝা!”-জেনেনিন কোন কোন ব্যাঙ্কে বাড়ল সুদের হার?

বাড়ি, গাড়ি কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকলে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) পক্ষ থেকে রেপো রেট বাড়ানোর ঘোষণা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশের একাধিক প্রধান ব্যাঙ্ক তাদের ঋণের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB), ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক এবং তামিলনাড়ু মার্কেন্টাইল ব্যাঙ্কের মতো প্রথম সারির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিভিন্ন ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

কেন এই হঠাৎ বৃদ্ধি? চলতি সপ্তাহে বুধবার আরবিআইয়ের মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC) সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০% করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রায় চার বছরের দীর্ঘ বিরতির পর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই হার বাড়াল। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং টাকার অবমূল্যায়নের মতো অর্থনৈতিক চাপ সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে আগামী দিনে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

কোন ব্যাঙ্ক কতটা বাড়াল সুদের হার?

  • পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB): দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সরকারি ব্যাঙ্ক তাদের রেপো-লিঙ্কড ঋণের হার (RLLR) ৮.১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮.৩৫ শতাংশ করেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ব্যাঙ্কটি তাদের এমসিএলআর (MCLR) বা বেস রেটে কোনও পরিবর্তন আনেনি।

  • ব্যাঙ্ক অফ বরোদা ও ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক: ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক তাদের রেপো-ভিত্তিক ঋণের হার (RBLR) ৭.৯৫% থেকে বাড়িয়ে ৮.২০% করেছে। অন্যদিকে, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা তাদের সুদের হার ৭.৯০% থেকে বাড়িয়ে ৮.১৫% করেছে।

  • অন্যান্য ব্যাঙ্ক: ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক তাদের RBLR বাড়িয়ে ৮.৩৫% করেছে। সরকারি খাতের পাশাপাশি তামিলনাড়ু মার্কেন্টাইল ব্যাঙ্কের মতো বেসরকারি ব্যাঙ্কও তাদের RLLR ৮.২৫% থেকে বাড়িয়ে ৮.৫০% করেছে।

গ্রাহকদের পকেটে এর কী প্রভাব পড়বে? রেপো রেট বৃদ্ধি পাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের ওপর। আপনার হোম লোন, কার লোন, পার্সোনাল লোন বা এডুকেশন লোন যদি ফ্লোটিং ইন্টারেস্ট রেট (Floating Interest Rate)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এর ফলে আপনার মাসিক ইএমআই (EMI) বৃদ্ধি পেতে পারে অথবা লোন পরিশোধের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে যাঁদের লোন মার্জিনাল কস্ট অফ ফান্ডস-ভিত্তিক (MCLR) বা পুরনো ফিক্সড রেটে রয়েছে, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে এই ধাক্কা সামলাতে হবে না।

অর্থনৈতিক মহলের নজর এখন অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলোর সিদ্ধান্তের দিকে। আগামী দিনে যদি বাকি ব্যাঙ্কগুলোও সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটে, তবে নতুন ঋণ নেওয়া এবং পুরনো ঋণ শোধ করা— উভয় ক্ষেত্রেই মধ্যবিত্তের পকেটে চাপ যে অনেকটাই বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।