“মাত্র ২ শতাংশ রাস্তায় ৩০ শতাংশ মৃত্যু!” ভারতের জাতীয় মহাসড়কগুলো কি তবে মৃত্যুর ফাঁদ?

রাস্তায় যাতায়াতের সময় সাধারণ মানুষের মনে এটাই ধারণা থাকে যে, প্রশস্ত ও আধুনিক রাস্তা মানেই নিরাপদ এবং দ্রুত ভ্রমণ। কিন্তু দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি শুনানিতে যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। তথ্য বলছে, দেশের মোট সড়ক দৈর্ঘ্যের মাত্র ২ শতাংশ হলো জাতীয় মহাসড়ক, অথচ দেশের মোট ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৩০ শতাংশের জন্যই দায়ী এই রাস্তাগুলি!
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জাতীয় মহাসড়কে ৫২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা বেড়ে ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭ হাজারে। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে সমস্ত সড়ক দুর্ঘটনা মিলিয়ে বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, যার এক বিরাট অংশ ঘটে এই হাইওয়েগুলিতে। প্রশ্ন উঠছে, দেশের অন্যতম উন্নত ও মসৃণ বলে দাবি করা এই রাস্তাগুলোই তবে কেন সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক গুরুতর কারণ। মহাসড়কগুলির মূল বৈশিষ্ট্য হলো যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, দূরপাল্লার ভারী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল এবং রাস্তার পাশে যত্রতত্র অনুপযুক্ত জায়গায় যানবাহন পার্কিং করে রাখা। এছাড়াও, হাইওয়েগুলিতে প্রায় ১৩,৭৯৫টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা (Black Spots) চিহ্নিত করা হলেও নজরদারির অভাব এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও মারাত্মক করে তুলছে। প্রশস্ত পিচঢালা রাস্তার এই গতিই যে প্রতিদিন শত শত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।