হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে বড় মন্তব্য! জোর করে নয়, কেরিয়ারের সুযোগ দিয়েই ভাষার প্রসার ঘটাতে হবে, সাফ মত জিতেন্দ্র সিংয়ের

কোনও ভাষাকে মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ। বরং কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পেশাদারী উন্নতির পথ প্রশস্ত করার মাধ্যমেই একমাত্র ভাষার বিকাশ সম্ভব। বুধবার কর্মী মন্ত্রকের হিন্দি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এমনই এক বাস্তবসম্মত ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, মানুষের উপর কোনও ভাষা জবরদস্তি চাপিয়ে না দিয়ে যদি তার মাধ্যমে কাজের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া যায়, তবে নাগরিকরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই ভাষা গ্রহণ করবেন।

এদিনের বৈঠকে দেশের ভাষাগত বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, হিন্দি ভাষার প্রচার হওয়া উচিত অত্যন্ত সরল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পন্থায়। বিশেষ করে যে সমস্ত প্রযুক্তিগত বা বিশেষ ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিভাষা সহজেই লভ্য নয়, সেখানে অন্ধের মতো হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়। এর ফলে যাতে জ্ঞানার্জন কিংবা তরুণ প্রজন্মের পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধির পথ কোনওভাবেই রুদ্ধ না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

জিতেন্দ্র সিং আরও উল্লেখ করেন, দেশের যে সমস্ত অঞ্চলে প্রচলিতভাবে হিন্দির ব্যবহার কম, সেখানেও বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিন্দি শেখার ঝোঁক বাড়ছে। সরকারি কাজকর্মের ক্ষেত্রে জটিল ও ভারী শব্দের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের বোধগম্য সহজ ও সাবলীল ভাষা ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি, গত এক দশকে সরকারি দফতরে হিন্দি ব্যবহারের আমূল পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলেই এই সংস্কৃতিতে বড় বদল এসেছে। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা আধিকারিকরাও এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে দফতরে হিন্দি ব্যবহার করছেন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সরকারি নথিপত্র বা দাপ্তরিক কাজের অনুবাদ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল ও সহজ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। বৈঠকে কমিটির সদস্যদের দেওয়া সমস্ত গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।