শুধু উচ্চ রক্তচাপ নয়, লো প্রেশারও মারাত্মক! এই লক্ষণগুলি দেখলেই বুঝবেন বড় বিপদ ঘনিয়ে আসছে!

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারের মতো নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেশারকেও অনেকেই সাধারণ ও কম ক্ষতিকর মনে করে ভুল করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সিস্টোলিক প্রেশার ৯০ মিলিমিটার মার্কারি বা তার কম এবং ডায়াস্টোলিক প্রেশার ৬০ মিলিমিটার মার্কারি বা তার কম হলে তাকে লো প্রেশার বা হাইপোটেনশন বলা হয়। সাধারণত রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত কমে গেলে মস্তিষ্কে, হৃদপিণ্ডে এবং কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে শরীরে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যাওয়া, গর্ভাবস্থা, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন, হৃদরোগ এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা লো প্রেশারের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। লো প্রেশারের রোগীরা প্রায়শই তীব্র মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা, হঠাৎ শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, মাথা হালকা লাগা, বমি ভাব, মনোযোগের অভাব এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করেন। প্রেশার মারাত্মক মাত্রায় কমে গেলে রোগী জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতে পারেন। অনেক সময় মস্তিষ্কে এবং হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তা অত্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে এবং অঙ্গহানি বা আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে সামান্য কিছু সতর্কতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন এনে নিম্ন রক্তচাপের এই ঝুঁকি সহজেই এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে জলের ঘাটতি দূর করতে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল ও ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় যেমন ওএমএস, ডাবের জল বা ফলের রস পান করা উচিত। খাবারের পাতে নুনের পরিমাণ সামান্য বাড়িয়ে দেওয়া এবং একসঙ্গে অনেক খাবার না খেয়ে সারাদিনে বারে বারে অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ কার্যকরী। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ একভাবে না দাঁড়িয়ে থাকা এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ বিছানা থেকে না লাফিয়ে ধীরে ধীরে ওঠার অভ্যাস করা উচিত। সমস্যা বেশি বাড়লে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।