খোসা সমেত নাকি ছাড়িয়ে? আমন্ড খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানলে চমকে উঠবেন

প্রতিদিন নিয়ম করে আমন্ড বা কাঠবাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। তবে আমন্ড খাওয়ার সময় প্রায়ই একটি প্রশ্ন অনেকের মনে আসে, তা হল এর খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া উচিত নাকি খোসা সমেত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন্ডের খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া একেবারেই বাধ্যতামূলক নয়। এই বাদামি খোসার নিজস্ব কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং হজমশক্তির ওপর ভিত্তি করে খোসা সমেত বা খোসা ছাড়িয়ে আমন্ড খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
আমন্ডের বাদামি খোসায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ফলে যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণের ডায়েট করছেন, তাঁদের জন্য খোসা সমেত আমন্ড খাওয়া বেশ উপকারী। পাশাপাশি, খোসায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং উদ্ভিজ্জ পুষ্টি ভরপুর মাত্রায় থাকে, যা শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
তবে আমন্ডের খোসায় ট্যানিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা অনেক সময় পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। এর ফলে শরীর বাদামের সম্পূর্ণ প্রোটিন এবং ভিটামিন ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারে না। ট্যানিনের এই সমস্যা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল আমন্ড সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখা। জলে ভিজলে বাদাম নরম হয় এবং ট্যানিনের প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। তখন খোসা সমেত খেলেও পুষ্টির ঘাটতি হয় না। অন্যদিকে, যাঁদের হজমশক্তি দুর্বল, তাঁদের খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই ভালো। সুস্থ ও স্বাভাবিক হজমশক্তি সম্পন্ন মানুষ নিশ্চিন্তে খোসা সমেত আমন্ড খেতে পারেন। তবে খোসা সমেত বা ছাড়িয়ে যেমনভাবেই খান না কেন, প্রতিদিন ৫ থেকে ১০টি আমন্ড খাওয়াই আদর্শ। পরিমিত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।