উত্তরপ্রদেশে পুলিশ প্রশাসনে মেগা রদবদল! ডিআইজি থেকে শুরু করে একাধিক জেলার এসপি পদে বড় পরিবর্তন

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বিভাগে একযোগে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করা হলো। রাজ্য সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক বদলির নির্দেশিকায় অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিজিপি) এবং এডিজি পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একাধিক জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) পদমর্যাদার মোট ২০ জন আইপিএস কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এই ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ ক্যাপ্টেন পদেও বড়সড় পরিবর্তন এসেছে।

নির্দেশিক অনুযায়ী, ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার এ. সতীশ গণেশ উত্তরপ্রদেশে ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে বহাল থাকছেন। এতদিন তিনি অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন, যা এবার সম্পূর্ণ পৃথক করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৯৮ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা ভগবান এস. শ্রীবাস্তব কারিগরি পরিষেবা বিভাগের পাশাপাশি এবার অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।

জেলাস্তরের রদবদলের মধ্যে বস্তি, জৌনপুর, বারাবাঁকি ও মুজাফফরনগরেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০১৩ ব্যাচের আইপিএস অফিসার যশবীর সিংকে বস্তির পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে জৌনপুরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। জৌনপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার কুনওয়ার অনুপম সিংকে লখনউয়ে উত্তর প্রদেশ পিএসি সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার পদে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২০১৪ ব্যাচের আইপিএস রবীনা ত্যাগীকে লখনউ কমিশনারেটের ডিসিপি পদ থেকে বারাবাঁকির নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মুজাফফরনগরের এসএসপি সঞ্জয় কুমারকে প্রয়াগরাজের চতুর্থ ব্যাটালিয়ন পিএসি-র কমান্ডার পদে বদলি করা হয়েছে এবং তাঁর স্থلভিষিক্ত হয়েছেন বাগপতের এসপি সুরজ কুমার রাই।

মাউ, গাজিপুর, বালিয়া, জালাউন, মথুরা এবং হাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিতেও নতুন মুখ আনা হয়েছে। মাউ-এর পুলিশ সুপার কমলেশ বাহাদুরকে লখনউতে ডিজিপি দপ্তরের জন অভিযোগ বিভাগের এসপি করা হয়েছে। গাজিপুরের পুলিশ সুপার ইরাজ রাজাকে বালিয়ার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জালাউনের পুলিশ সুপার বিনয় কুমার সিংকে গাজিপুরের এসপি করা হয়েছে এবং মথুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরেশ চন্দ্র রাওয়াতকে পদোন্নতি দিয়ে জালাউনের পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতেই এই বড়সড় রদবদল করেছে রাজ্য সরকার।