পুজোর মুখে বড় ধাক্কা! ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ল রেপো রেট, এক ধাক্কায় কতটা বাড়বে আপনার বাড়ির ইএমআই?

উৎসবের মরশুমের ঠিক প্রাক্কালে দেশের সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তের জন্য বড়সড় আর্থিক ধাক্কা নিয়ে এল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বুধবার এক ঘোষণায় আরবিআই রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বা ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে দেশের আর্থিক বাজারে বর্তমান রেপো রেটের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫ শতাংশে। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের জেরে সরাসরি পকেটে টান পড়তে চলেছে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের। বিশেষ করে যাঁরা গৃহঋণ বা হোম লোনের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই (EMI) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেছে। একইসঙ্গে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আবাসন বা রিয়েল এস্টেট বাজারেও।

রেপো রেট হলো সেই সুদের হার, যে হারে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বা আরবিআই অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ প্রদান করে থাকে। আরবিআই যখন রেপো রেট বৃদ্ধি করে, তখন ব্যাঙ্কগুলির তহবিল সংগ্রহের খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহকদের দেওয়া বিভিন্ন ঋণের সুদের হারও বাড়িয়ে দেয়। এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে রেপো রেট বৃদ্ধির জেরে গ্রাহকদের ওপর ঋণের বোঝা আরও একপ্রস্থ ভারী হলো।

ప్రముఖ আর্থিক সংস্থা ব্যাংকবাজার (BankBazaar)-এর সিইও সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, যাঁরা ফ্লোটিং সুদের হারে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের ওপর এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কেউ যদি ৭.৫ শতাংশ সুদের হারে ২৫ বছরের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার গৃহঋণ নিয়ে থাকেন, তবে এতদিন তাঁকে প্রতি মাসে ৩৬,৯৫০ টাকা ইএমআই দিতে হচ্ছিল। কিন্তু রেপো রেট বৃদ্ধির পর অতিরিক্ত সুদের কারণে তাঁকে প্রতি মাসে আরও ৮১৭ টাকা বেশি গুনতে হবে। অর্থাৎ এখন থেকে প্রতি মাসে তাঁর ইএমআই হবে ৩৭,৭৬৭ টাকা।

অন্য একটি উদাহরণে দেখা যাচ্ছে, ৩০ বছরের জন্য যদি কেউ ৫০ লক্ষ টাকার গৃহঋণ নিয়ে থাকেন, তবে এতদিন ৭.৭৫ শতাংশ হারে তাঁকে প্রতি মাসে ৩৫,৮২১ টাকা ইএমআই দিতে হচ্ছিল। সুদের হার বেড়ে ৮ শতাংশ হওয়ার ফলে এখন তাঁকে প্রতি মাসে ৩৬,৬৮৮ টাকা ইএমআই দিতে হবে। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রতি মাসে ৮৬৭ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। সব মিলিয়ে পুরো ঋণ পরিশোধের মেয়াদে ওই গ্রাহককে শুধুমাত্র সুদের বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ২.৪৫ লক্ষ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হতে পারে। উৎসবের আনন্দ যখন চারদিকে ঠিক তখনই ঋণের এই বাড়তি বোঝা মধ্যবিত্তের পকেটে যে বড়সড় টান ধরাবে, তা বলাই বাহুল্য।