ককপিটে রক্তক্ষয়ী হামলা! ১৪ হাজার ফুট নীচে নামছিল বিমান, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতায় বাঁচল ১৭৪ প্রাণ

মাঝ আকাশে এক অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭ যেভাবে বিমানটি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল, তার নেপথ্যে রয়েছে এক ভারতীয় পাইলটের অসামান্য সাহস এবং বুদ্ধিমত্তা। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই ফ্লাইটের ককপিটে বসে সহ-পাইলট হঠাৎই হামলা চালান ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের উপর। বিমানের জরুরি ব্যবহারের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যার জেরে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি ১৪ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতা হারিয়ে ফেলে। মারাত্মক আহত অবস্থাতেও চরম মানসিক দৃঢ়তা দেখান স্মিত। নিজের জীবনের পরোয়া না করে তিনি শেষ শক্তিতে ককপিটের দরজা খুলে দেন, যার ফলে ভিতরে থাকা অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে আক্রমণকারীকে কাবু করে ফেলতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রুরা প্রাণে বেঁচে যান।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়ে মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ৫ অক্টোবর মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য জোশ গটহেইমার, মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন যৌথভাবে এই প্রস্তাবটি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে পেশ করেন। প্রস্তাবে এই ভয়াবহ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার উপর একটি সুপরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের অনুকরণীয় সাহসিকতা, অফ-ডিউটি পাইলট, ক্রু এবং যাত্রীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে এই ঘটনার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেলও এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদী কাজ’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন।