ফের যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহ রূপ! কৃষ্ণসাগরে তেল ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও আগুন, চরম আতঙ্কে উদ্বিগ্ন বিশ্ব!

রুশ কৃষ্ণসাগর উপকূলের সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জেরে লাইবেরিয়ায় রেজিস্টার্ড একটি তেল ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এএনআই সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই ট্যাঙ্কারটিতে একাধিক ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মহলে এবং কূটনৈতিক মহল তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রুশ কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী বিখ্যাত রিসর্ট শহর সোচির কাছাকাছি এই হামলাটি সংঘটিত হয়। সোচির জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি হওয়ায় এবং এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল হওয়ায় হামলার অভিঘাত ছিল অত্যন্ত মারাত্মক। নৌবাহিনীর ড্রোন হামলার সরাসরি মুখে পড়ে জাহাজটিতে থাকা অপরিশোধিত তেলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই ভয়াবহ ও তীব্র ছিল যে, প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কৃষ্ণসাগরের নীল জলের ওপর উজ্জ্বল কমলা রঙের আগুনের শিখা দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং সোচির আকাশ কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ঢেকে গেছে।
রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমে এলে ফায়ার সার্ভিস ও দমকল বাহিনী পুরোপুরি আগুন নেভানোর চূড়ান্ত চেষ্টা চালাবে। তবে এর মধ্যেও সবথেকে স্বস্তির ও আশার খবর হলো, এই ভয়াবহ হামলার কবলে পড়া ট্যাঙ্কারে থাকা মোট ২৩ জন নৌ-কর্মীর সকলকেই অত্যন্ত সফলভাবে ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ট্যাঙ্কার হামলার ঠিক একদিন আগেই ‘এমভি রয়াদ মামাদভ’ (MV ROYAD MAMMADOV) নামক অপর একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আকস্মিক আগুন ধরে যায় এবং সেটি রোমানিয়া উপকূলের কাছাকাছি ভয়াবহভাবে ডুবে যায়। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারান এবং তিন জন ভারতীয় সহ বেশ কয়েকজন নৌ-কর্মী গুরুতর আহত হন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের ধারাবাহিক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে কৃষ্ণসাগর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে চরম জটিল আকার ধারণ করেছে। এই লাগাতার রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব ও বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। নয়াদিল্লি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান সংকট উত্তরণে যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো পথ হতে পারে না; একমাত্র আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, রোমানিয়ান প্রশাসন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আহত নৌ-কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করেছে এবং তাদের স্থানীয় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। বুখারেস্টের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যে রোমানিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মনোজ মহাপাত্র কনস্টান্টা কাউন্টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্যের সম্পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই একের পর এক সামুদ্রিক দুর্ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের সুরক্ষাকে নতুন করে বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।