আশঙ্কা সত্যি! দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর বড় ধাক্কা দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, আপনার ইএমআই কি এবার আকাশছোঁয়া হবে?

আশঙ্কাকে সত্যি করেই রেপো রেট বৃদ্ধি করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর এই প্রথমবার রেপো রেট বৃদ্ধি করল দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি নির্ধারণ কমিটি (এমপিসি)-র বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক-এর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে আজ এমপিসি-র এই বৈঠকে রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই পরিবর্তনের ফলে রেপো রেটের হার ৫.২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সরাসরি ৫.৫০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে লাগাতার অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দামে পতন—এই সমস্ত বহুমুখী কারণে রেপো রেট বৃদ্ধির আশঙ্কা বহু আগে থেকেই প্রকাশ করেছিলেন দেশের প্রথম সারির বাজার বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেই নিজেদের আর্থিক নীতিতেও বড়সড় বদল এনেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এতদিন আর্থিক নীতি ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ থাকলেও, তা বদলে এখন ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং’ বা নিয়ন্ত্রিত কড়াকড়ির পথে হাঁটল আরবিআই। অর্থাৎ, এতদিন পরিস্থিতি অনুযায়ী রেপো রেট বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে কিছুটা উদার মনোভাব বজায় রাখলেও, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আর্থিক নীতিতে স্পষ্টতই কড়াকড়ি আনল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই বড় সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তের গৃহ ঋণের (হোম লোন) মতো বিভিন্ন ঋণের ইএমআই বা মাসিক কিস্তি বৃদ্ধির তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রাহকদের যদি ফ্লোটিং ইনটারেস্ট রেট বা পরিবর্তনশীল সুদের হারে ঋণ নেওয়া থাকে, সেক্ষেত্রে রেপো রেট বৃদ্ধির কারণে সরাসরি ইএমআই বাড়ার খাড়া নেমে আসবে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে রয়েছে স্বস্তির ও সুখবরও। ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) বা স্থায়ী আমানতের মতো বিভিন্ন ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়ায় আমানতকারীদের আয় ভবিষ্যতে কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

বৈঠক শেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোটা বিশ্বেই বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রেও গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গ্লোবাল সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

একই সঙ্গে অবশ্য দেশের অর্থনীতি নিয়ে সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করার সুরে আরবিআই প্রধান দাবি করেছেন যে, ভারতীয় অর্থনীতি বর্তমানে যথেষ্ট মজবুত ও শক্তপোক্ত ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসলে রেপো রেট ফের কমানো হতে পারে বলেও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা।