আর বাড়বে না বিমান ভাড়ার ধাক্কা? মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝে বড় স্বস্তির খবরে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র!

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে এভিয়েশন সেক্টরে। বিগত তিন মাসে বিমান জ্বালানির (ATF) দাম একধাক্কায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর এবার আসরে নামল কেন্দ্র। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিমান ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে তেল সরবরাহকারী সংস্থা (OMC) ও বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে জরুরি বৈঠক শুরু করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক।

সম্প্রতি দেশের বিমান সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’ (FIA) সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি না করে বাস্তব খরচ ও নির্দিষ্ট মুনাফার ওপর নির্ভর করে বিমান জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হোক।

৩টি মূল বিষয়ে নজর সরকারের:

  • দাম নির্ধারণের নতুন ফর্মুলা: আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক মূল্যের বদলে ‘কস্ট-প্লাস’ মডেল (প্রকৃত খরচ + যুক্তিসঙ্গত মার্জিন) গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে এফআইএ।

  • বিপুল খরচ বৃদ্ধি: বিমান চালনার মোট খরচে জ্বালানির অবদান ৩০-৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৫৫-৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।

  • জ্বালানির দর বৃদ্ধি: গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে, কেবল অক্টোবর মাসেই বেড়েছে ১৩%-এর বেশি।

আকাশছোঁয়া তেল ও বিপাকে এয়ারলাইন্স:

ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেটের মতো দেশের প্রথম সারির বিমান সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রুপি-ডলারের বিনিময়ে রুপির পতনের দরুন পরিচালন ব্যয় মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিশোধিত তেল (ব্রেন্ট ক্রুড)-এর দাম ব্যারেলে ৭২ ডলার থেকে লাফিয়ে ১১৮ ডলারে পৌঁছানোতেই এই চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি।

ইন্ডিগো ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ যুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছে। এর ফলে বহু রুটে বিমান ভাড়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য অলাভজনক ও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

সরকারের দিকে তাকিয়ে সাধারণ যাত্রী:

এফআইএ কেন্দ্রের কাছে আরও দাবি জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক স্তরে অতিরিক্ত ৬০ ডলার প্রতি ব্যারেল যে অস্বাভাবিক মার্জিন নেওয়া হচ্ছে, তা কমিয়ে এনে সাধারণ গড়ে ১০-১২ ডলারে নামিয়ে আনা হোক। বিমান সংস্থাগুলির স্পষ্ট বক্তব্য, সময়মতো সরকার সাহায্য না করলে অনেক রুটে পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত করতে বাধ্য হবে তারা। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক সূত্রে খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ যাত্রীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত ভাড়া চাপানো না হয়, তার জন্য বিশেষ রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।