আরজি করের সেই ‘থ্রেট কালচার’ খ্যাত অভীক দে-র বিরুদ্ধে বড় অ্যাকশন! এবার SSKM থেকে কাটা গেল নাম

আরজি কর হাসপাতাল-কাণ্ডে তোলপাড় ফেলে দেওয়া ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির অন্যতম অভিযুক্ত চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এসএসকেএম (IPGME&R)-এর স্নাতকোত্তর (MS in General Surgery) কোর্স থেকে তাঁর নাম অবিলম্বে বাদ দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জালিয়াতির দায়ে তাঁর কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আদায়ের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে ফাঁস হলো জালিয়াতি?

তদন্তে জানা গেছে, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিওডায়াগনোসিস বিভাগে আরএমও (RMO) হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সার্ভিস কোটার বিশেষ সুবিধা নিয়ে অভীক দে এসএসকেএম-এ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই সার্ভিস কোটার দাবি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক।

বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি স্পষ্ট জানায়, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এবং ভুল তথ্য পেশ করে সার্ভিস কোটায় ভর্তি হয়েছিলেন অভীক দে। ফলে তাঁর ভর্তি অবিলম্বে বাতিল করার সুপারিশ জমা দেয় কমিটি।

স্বাস্থ্য দফতরের কড়া নির্দেশিকা:

তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

  • আদেশ বাতিল: সার্ভিস কোটা সংক্রান্ত টিআর (TR) মঞ্জুর করার সরকারি আদেশটি গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সরকারি নির্দেশিকা (G.O. No. HF/O/MERT/1126/ME/ENQ-43-2026) মারফত বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

  • কোর্স থেকে নাম ছাঁটাই: এসএসকেএম-এর (IPGME&R) অধিকর্তাকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২০২৪ সেশনে এমএস (General Surgery) কোর্সে ভর্তি হওয়া অভীক দে-র নাম তালিকা থেকে অবিলম্বে বাদ দিতে হবে।

  • মোটা অঙ্কের জরিমানা: ২০১০ সালের সরকারি নিয়ম (G.O. No. HF/O/MERT/1542/Admin/ME/STM-28-10) অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে কোর্স ছাড়ার কারণে তাঁর থেকে দ্রুত সরকার নির্ধারিত পুরো জরিমানার টাকা আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই একাধিক বিতর্কিত কাজের জন্য প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন অভীক দে। এবার স্বাস্থ্য দফতরের এই কঠোর সিদ্ধান্তে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত শিক্ষাগত সুযোগ ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের ওপর বড় ধাক্কা নামল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।