‘দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে!’ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দিল্লি দখলের হুঙ্কার দিয়ে রাস্তায় নামল ইন্ডিয়া জোট!

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (EC) ভূমিকা ও সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, বিতর্কিত ‘এসআইআর’ (SIR) প্রত্যাহার এবং ইভিএমের পরিবর্তে পুনরায় ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চালুর জোরালো দাবিতে রাজধানী উত্তাল করে তুলেছেন বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে আকাশবাণী ভবনের কাছে দিল্লি পুলিশ লোহার ভারী ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়।

পুলিশের এই কঠোর বাধার মুখে পড়ে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং ইন্ডিয়া জোটের একাধিক হেভিওয়েট নেতা সেখানেই প্রকাশ্য রাস্তায় অবস্থান ধর্মঘটে বসে পড়েন। পরিস্থিতির অবনতি হতে দেখে সমাজবাদী পার্টির বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ও কর্মী ব্যারিকেডের লোহার ওপর চড়ে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অজুহাতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই সংবেদনশীল এলাকায় আগে থেকেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা (পুরাতন বি এন এস এস ধারা বা ১৪৪ ধারা সদৃশ নিষেধাজ্ঞা) জারি করা রয়েছে, ফলে কাউকে বেআইনিভাবে জটলা করতে বা সামনে এগোতে দেওয়া সম্ভব নয়।

বিক্ষোভ স্থল থেকে বিরোধী নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যতক্ষণ না তাদের সুনির্দিষ্ট ও মৌলিক দাবিগুলি মেনে নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন ও অবস্থান ধর্মঘট দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার দাবিতে বিরোধী দলগুলির এই লাগাতার আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।