“সাত খুন মাফ!” মালদহে কংগ্রেস নেতাদের আটকের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ শুভঙ্করের

রাজ্যে আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ভোটারদের প্রকাশ্যে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে এবং তীব্র অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দ্বারস্থ হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে জমা দেওয়া অভিযোগে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে কংগ্রেস কর্মীদের মনে লাগাতার ভয়-আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এলাকা জুড়ে সশস্ত্র বহিরাগতদের জমায়েত এবং রাতের অন্ধকারে বাইক বাহিনীর প্রকাশ্য দাপাদাপি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

এদিকে, নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মালদহের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও রাজ্য সরকারকে চরম নিশানা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, সম্প্রতি মালদহ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ ইশা খান চৌধুরী যখন মালদহ জেলা পরিষদের তিন জন সদস্যকে নিয়ে পাকুড় থেকে ফিরছিলেন, তখন স্টেশনেই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর দাবি, মালদহ স্টেশনে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে বিজেপির একটি বিশাল বাহিনী জমায়েত করে। এরপর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই পুলিশ ট্রেনের ভেতরে ঢুকে ওই তিন জেলা পরিষদ সদস্যকে জোরপূর্বক আটক করে।

কংগ্রেস সভাপতির বিস্ফোরক দাবি, এই তিন সদস্য সম্প্রতি কংগ্রেসে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং মালদা জেলা পরিষদে কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শুভঙ্কর বাবু বলেন, “রাজ্যে যারা প্রকৃত অর্থে বিজেপির বিরোধিতা করছেন, তাদেরই সুপরিকল্পিতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। কেউ কংগ্রেসে যোগ দিলেই বা সমর্থন জানালে পুলিশকে লেলিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।” অথচ অন্যদিকে, যারা পরোক্ষে বিজেপিকে সমর্থন করছেন কিংবা সরাসরি বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন, তারা হাজারো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়েও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান শাসকদলের আমলে রাজ্যে এক চরম নৈরাজ্যের শাসন চলছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, পুলিশ যাদের আটক করেছে তাদের সুরক্ষার্থে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। হাইকোর্টের সেই পুলিশি সুরক্ষার নির্দেশকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পুলিশের এই বেআইনি পদক্ষেপ আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন শুভঙ্কর সরকার। এই ঘটনার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনে নেমে পথে নেমে প্রতিবাদের পাশাপাশি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুংকারও দিয়েছেন তিনি।