মিথ্যার জয় না সত্যি? ‘দৃশ্যম ৩’-এর ক্লাইম্যাক্স নিয়ে তোলপাড় বলিউড! অজয়-জয়দীপের মহা-সংঘাত কি জমে উঠল?

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সাসপেন্স থ্রিলার ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দৃশ্যম’-এর প্রতিটি পরতে রয়েছে রোমাঞ্চের টান টান উত্তেজনা। প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্বের পর সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ বা ‘দৃশ্যম ৩’ ছবিটিকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র দিনে মুক্তি পাওয়া এই ছবি আবারও প্রমাণ করেছে যে, এখানে প্রচলিত ‘সত্যমেব জয়তে’ নীতির কোনো স্থান নেই, বরং সত্যকে আড়াল করে মিথ্যার নিখুঁত জালে তৈরি হয়েছে এক অন্য দুনিয়া। ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যে তাবু অভিনীত মীরা দেশমুখ যখন বলেন, “বিজয় সালগাঁওকর ভুল করেও নায়ক, আর আমরা সঠিক হয়েও খলনায়ক,” তখন সেটাই এই গল্পের মূল দর্শন হয়ে ওঠে।

ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো অজয় দেবগনের অত্যন্ত শান্ত অথচ গভীর অভিনয় এবং তাঁর বিপরীতে জয়দীপ আহলাওয়াতের দুর্দান্ত উপস্থিতি। প্রথমবার এই দুই শক্তিশালী অভিনেতা মুখোমুখি হওয়ায় স্ক্রিন প্রেজেন্স এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। একজন ক্যাবল অপারেটর থেকে ধূর্ত মাস্টারমাইন্ড হয়ে ওঠার এই যাত্রায় বিজয় সালগাঁওকর যেভাবে পুলিশ, আদালত ও আইনকে বোকা বানিয়ে নিজের পরিবারকে রক্ষা করেছেন, তা যেমন চিত্তাকর্ষক, তেমনই বিতর্কিত। বেশিরভাগ হিন্দি সিনেমায় অপরাধের পরে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা অনুশোচনা দেখা গেলেও, ‘দৃশ্যম’-এ পুরো পরিবার এককাট্টা হয়ে অপরাধ লুকাতে সাহায্য করে। কোনো ধরনের অতিরিক্ত ড্রামা ছাড়াই নিপুণ চিত্রনাট্য এবং গভীর সংলাপ এই ছবিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তবে ছবির শেষ বা ক্লাইম্যাক্স নিয়ে দর্শকদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। প্রথম দুই পর্বের তুলনায় তৃতীয় পর্বের গল্পের গতি কিছুটা শ্লথ মনে হলেও, অজয়ের মুখে বলা সংলাপ— “সত্য আর মিথ্যা হলো একটি গল্পের মাত্র দুটি দিক, যদি তুমি গল্পটা বদলে দাও, তাহলে সত্যও বদলে যায়”— দর্শকের মনে গভীর রেখাপাত করে। আইন ও পুলিশ প্রশাসনের অসহায়ত্ব এবং বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা দর্শককে কিছুটা ভাবালেও, নিখুঁত অপরাধ লুকানোর এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই বক্স অফিসে এক নতুন নজির গড়েছে। সব মিলিয়ে, মিথ্যার জাদুতে মোড়া ‘দৃশ্যম ৩’ দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছে।