জয়শঙ্করের পরে এ বার Food Crisis আশঙ্কা নির্মলারও, বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কালো ছায়া এখন গোটা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি ও গ্যাসের সঙ্কটের পর এবার বিশ্বজুড়ে আসন্ন এক ভয়ংকর খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। কিছুদিন আগেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আর এবার খোদ দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের গলাতেও শোনা গেল একই আশঙ্কার সুর। মিউনিখে এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি বিশ্ব অর্থনীতির সামনে আসা নতুন বিপদের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।

হরমুজ প্রণালীর বিশৃঙ্খলা ও খাদ্য নিরাপত্তা

মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালী এবং বাব আল-মানদেবের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ও সমুদ্রপথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা গোটা বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এর পাশাপাশি তিনি মালাক্কা প্রণালীর প্রসঙ্গও তোলেন। অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে এই রুটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, সেখানে সামান্য গোলযোগ দেখা দিলেও বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় ধস নামতে পারে।

এর আগে যুদ্ধ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং সার সরবরাহের সীমাবদ্ধতার জেরে আগামী মাসগুলিতে বড় ধরনের খাদ্য সঙ্কটের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও।

সঙ্কট মোকাবিলায় ভারতের বড় পদক্ষেপ

বিশ্বজুড়ে আসন্ন খাদ্য সঙ্কটের এই মেঘ কাটাতে ভারত যে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সার আমদানিকারক শিপিং লাইনগুলিকে ক্রমবর্ধমান বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে ভারত একটি বিশেষ ‘শিপিং ইমার্জেন্সি ফান্ড’ গঠন করেছে।

বর্তমান বাজারে চড়া দাম, সীমিত শিপিং পরিষেবা এবং বিপুল পরিমাণ বীমা প্রিমিয়ামের জেরে সার আমদানিতে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ভারত অভ্যন্তরীণভাবেই ইউরিয়া ও ফসফেট সারের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। তবে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনে কিছুটা সময় লাগবে।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বড় আপডেট

মিউনিখের এই সম্মেলনে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও মুখ খুলেছেন নির্মলা সীতারামন। তিনি জানান, দুই দেশ বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দুপক্ষের পক্ষেই এর চেয়ে বেশি ছাড় দেওয়া বা সমঝোতা করা অত্যন্ত কঠিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বর্তমান আলোচনার বাইরে গিয়েও বিভিন্ন আলাদা পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যাপক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওয়াশিংটন সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছিলেন। উভয় পক্ষেরই লক্ষ্য রয়েছে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। তবে বিশ্বজুড়ে বর্তমান অস্থিরতার মাঝে এই বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ এবং খাদ্য নিরাপত্তার চাবিকাঠি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।