কালীঘাটের হাতছাড়া জয়! পুজোর মুখে দলীয় ফান্ডের দাবিতে হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেল মমতাপন্থী তৃণমূল

পুজোর ঠিক প্রাক্কালে বড় ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় তহবিলের টাকা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সরাসরি খারিজ হয়ে গেল তাদের দ্রুত শুনানির আর্জি। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, পুজোর ছুটির পরেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ফলে উৎসবের মরসুমে কর্মচারীদের বেতন বা বাড়ি ভাড়ার খরচ মেটানো নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে মমতাপন্থী শিবির।
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ভাঙন ও ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের জেরে কলকাতার একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা তৃণমূলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বর্তমানে ফ্রিজ করা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুজোর আগে দলীয় ফান্ড থেকে টাকা ব্যবহারের আর্জি জানিয়ে আদালত নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসার সুব্রত তালুকদারের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তাদের মূল দাবি ছিল, উৎসবের মুখে কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য জরুরি খরচ মেটানোর জন্য যেন দলীয় তহবিলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু স্পেশ্যাল অফিসার সেই আবেদন মঞ্জুর না করায় তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানান।
আদালতে শুনানির সময় মমতাপন্থী শিবিরের আইনজীবী জানান যে, স্পেশ্যাল অফিসার কেবল জানতে চেয়েছেন উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে কিনা এবং তা অনির্দিষ্টকালের জন্য কি না। এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যার দাবিতেই তাঁরা দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কালীঘাট তৃণমূলের দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে সাফ জানিয়ে দেন যে, পুজোর ছুটির আগে এই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির কোনো সুযোগ নেই। আদালত খুললে নির্দিষ্ট নিয়মেই এর শুনানি হবে। এর ফলে পুজোর মুখে দলীয় ফান্ড ব্যবহার করতে না পারায় আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপ বাড়ল মমতাপন্থী নেতৃত্বের ওপর।