শত্রুশিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল চাহিদা! ফিলিপিন্সের পর এবার কোন কোন দেশ ঝুঁকছে ভারতের ব্রহ্মোসের দিকে?

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সফল সামরিক অভিযানের পর থেকেই ভারতের ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের বিশ্বজোড়া কৌশলগত গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। অপারেশন সিঁদুরের সময় এই শক্তিশালী অস্ত্রের কার্যকারিতা দেখে গোটা বিশ্ব ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মুন্সিয়ানা প্রত্যক্ষ করেছে। এই সাফল্যের পরই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ফিলিপিন্স এখন নিজেদের ভৌগোলিক অবস্থান ও অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ব্রহ্মোসের ক্ষমতা খাপ খাইয়ে নেওয়ার অভিনব উপায় খুঁজছে।

ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গिल्বার্তো টিওডোরো জুনিয়র हाल ही में এক বৈঠকে জানান যে, তাঁদের দেশ ব্রহ্মোস ব্যবহারের পূর্বের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই অস্ত্র ব্যবস্থাকে নিজেদের দ্বীপপুঞ্জের ভূখণ্ড, উপকূলীয় পরিকাঠামো এবং বিশেষ যুদ্ধকৌশলের উপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। উল্লেখ্য, ফিলিপিন্সই হল ব্রহ্মোসের প্রথম বিদেশি ক্রেতা। ২০২২ সালে প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে দেশটি তিনটি কোস্টাল ডিফেন্স ব্যাটারি ক্রয় করেছিল। বর্তমানে দক্ষিণ চিন সাগরের জটিল ও উত্তপ্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিজেদের সামুদ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে বদ্ধপরিকর ম্যানিলা।

গত আগস্ট মাসে মার্কিন ও ফিলিপিন্স মেরিন বাহিনী ব্রহ্মোসকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি যৌথ সামুদ্রিক স্ট্রাইক এবং কিল-চেন টার্গেটিং ড্রিল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ড্রোনের মাধ্যমে শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড-বেসড অ্যান্টি-শিপ মিসাইল হামলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পর্যন্ত এই মহড়ায় অনুশীলন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুরের এই প্রমাণিত সাফল্যের পর ভারতের ডিফেন্স এক্সপোর্ট বা প্রতিরক্ষা রপ্তানির আর্থিক পরিমাণ ৬০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফিলিপিন্সের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও ব্রহ্মোস সংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূ-কৌশলগত কূটনীতিতে এই ব্রহ্মোস মিসাইল এখন অত্যন্ত চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের এই প্রতিরক্ষা অংশীদারি কেবল অস্ত্র কেনাবেচার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা উপকূলীয় নজরদারি, ড্রোন-ভিত্তিক টার্গেটিং এবং অত্যাধুনিক নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক স্ট্রাইক ক্ষমতার এক বিরাট বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে। সব মিলিয়ে, ব্রহ্মোসের এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।