আমেরিকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জ্বরে কাঁপছে শেয়ার বাজার! ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বার্তা এস. নরেনের

ভারতীয় শেয়ার বাজারে গত দুই বছর ধরে চলা তীব্র মন্থরতা এবং ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য আশার আলো দেখালেন আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল মিউচুয়াল ফান্ডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং সিআইও এস. নরেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আমেরিকান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের একতরফা উত্থানের ফলে ভারতসহ সমস্ত উদীয়মান বাজার থেকে বিদেশি পুঁজি দ্রুত সরে যাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি চিরস্থায়ী নয় বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন এআই খাতের এই রমরমা ভাব ও গতি কিছুটা থিতিয়ে এলেই বিশ্বজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি ফের ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকেই ঘুরবে বলে তাঁর জোরালো বিশ্বাস।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজার অত্যন্ত চড়া দামে লেনদেন হচ্ছে। মার্কিন সরকারি বন্ডে ৫.৩ থেকে ৫.৫ শতাংশ চমৎকার সুদের হার পাওয়ায় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সহজে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাছাড়া, তাইওয়ান ও কোরিয়ার মতো প্রধান বাজার থেকেও যেভাবে বিদেশি তহবিল প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাতে ভারতীয় বাজার কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে। তবে মার্কিন সুদের হার ইতিমধ্যেই তার সর্বোচ্চ শিখরের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং খুব শীঘ্রই এই প্রবণতা থমকে যাবে। এর ফলে বিদেশি পুঁজির আকর্ষণ আবার ভারতের বাজারে দ্বিগুণ গতিতে ফিরে আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

এদিকে শেয়ার বাজারে নতুন আইপিও এবং স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ স্টকগুলির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন এস. নরেন। অনেক নতুন আইপিও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর তুলনায় অতিরিক্ত বেশি দামে বাজারে আসছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরণের ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। এই অন্ধ হুজুগে না মেতে বিনিয়োগকারীদের একটি সুষম সম্পদ বণ্টনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পোর্টফোলিওতে অবশ্যই সোনা বা গোল্ড রাখার কথা বলেছেন তিনি, যা যেকোনো বাজারের অপ্রত্যাশিত অস্থিরতা ও পতন থেকে রক্ষা করবে।

এই মন্থর ও চ্যালেঞ্জিং বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোন খাতগুলি লাভজনক হতে পারে, তাও স্পষ্ট করেছেন অভিজ্ঞ এই ফান্ড ম্যানেজার। তথ্যপ্রযুক্তি এবং এফএমসিজি খাতে যখন প্রবৃদ্ধি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই বেসরকারি খাতের ব্যাংক এবং বীমা খাতে বিনিয়োগের দারুণ সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। বীমা খাতের জন্য সাম্প্রতিক নতুন বিধিমালা দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবসাকে অভাবনীয় গতি দেবে। সুনির্দিষ্ট কোনো একটি খাত বা শেয়ারের পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে, বুদ্ধিদীপ্ত ও বিপরীতমুখী কৌশল অবলম্বন করেই এই বাজারে বড় মুনাফা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।