‘ভোট চুরি’র অভিযোগে ফুঁসছে এনএসইউআই! প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ধুন্ধুমার বিক্ষোভে রণক্ষেত্র রাজধানী

নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী। গত ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদের ডাক দেয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)। এনএসইউআই-এর জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখরের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সিইসি-র অবিলম্বে পদত্যাগ ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দল ও যুব সংগঠনের হাজার হাজার কর্মী এই আন্দোলনে শামিল হন।
গত ৪ অক্টোবর, রবিবার এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের এক রক্তক্ষয়ী ও হিংসাত্মক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের মিছিলটি রুখে দেয় পুলিশ। অশোকা রোডের কাছে মিছিল আটকে প্রায় ৫০০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আটক করার সময় বিক্ষোভকারীদের জোর করে টেনেহিঁচড়ে এবং ধাক্কা মেরে পুলিশি বাসে তোলা হয়। এমনকি এক পর্যায়ে মহিলা পুলিশ কর্মীদের নারী বিক্ষোভকারীদের পা ধরে টেনে আটক করার গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। অপর একটি ঘটনায় এক পুরুষ বিক্ষোভকারীর মাথা চেপে ধরে তাকে বাসে ঠেলে তোলার ভিডিও সামনে আসতেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এই পুরো দাঙ্গা হাঙ্গামার মাঝেই এক নারী সাংবাদিক মারাত্মক অভিযোগ এনে জানিয়েছেন যে, শনিবার আন্দোলন কভার করার সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও যৌন হয়রানি করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের ১০ থেকে ১৫টি বড় বাসে করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিরোধী নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ছাত্র সংগঠনের ব্যাপক অংশগ্রহণে দিল্লির রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও তীব্র রূপ নিতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।