রাজনীতিতে বড় ধাক্কা! তৃণমূলের পথ ছেড়ে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা সদ্য প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ কোয়েল মল্লিককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে পড়ে গেল এক বিরাট রাজনৈতিক শোরগোল। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সমস্ত জল্পনা সত্যি করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেন কোয়েল মল্লিক। সোমবার মুরলীধর সেন লেনে অবস্থিত রাজ্যের দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। শুধু যোগদানই নয়, রাজ্যসভায় খালি হওয়া নির্দিষ্ট সেই আসনে তাঁকে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির।

দলের রাজ্য দফতরে যোগদানের পরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান কোয়েল মল্লিক। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ওঁরাই আমাকে এই কাজের সুযোগ দিয়েছেন। এটা একটা বিশাল বড় কর্তব্য ও দায়িত্ব।” তাঁর মতে, বিগত কিছু মাস ধরে রাজ্যে যেভাবে উন্নয়নের ধারা শুরু হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ হিসেবে সকলেই আনন্দিত। রাজনীতিতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে খবরের কাগজ খুললে বহু বিষয়ে মনে হতাশা কাজ করত। পড়াশোনা শেষ করে বাংলার মেধাবী তরুণ-তরুণীদের ভিনরাজ্যে বা বিদেশে চলে যাওয়া দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত—কেন এই সুযোগগুলো বাংলায় তৈরি হচ্ছে না? সেই অপূর্ণতা দূর করতেই এবার সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে নেমে কাজ করতে চান তিনি।

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং খবরের কাগজের খবরের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “ইস ইস করে বলতে গেলে তো অনেক কথা বলতে হবে।” তবে রাজ্যে যুবসমাজের মধ্যে বেড়ে চলা হতাশা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার টক্সিসিটির মূল কারণ হিসেবে তিনি কর্মসংস্থানের অভাবকেই দায়ী করেছেন। কোয়েল মল্লিকের সাফ কথা, রাজ্যে চাকরির অভাব রয়েছে এবং তা মেনে নিয়ে রুট লেভেলে কাজ করতে হবে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য উন্নতমানের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো ব্যক্তিত্বরা তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন। সেই একই পথ অনুসরণ করে কয়েকমাস আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। আর পদত্যাগের দিন থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল যে তিনি বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন। আজ মুরলীধর সেন লেনে সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ে গেল। ডেলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এখন রাজ্যের সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।