‘আমাকে শুধু সুন্দর মুখ ভাবতেন!’, দীর্ঘ ১০ বছরের অবহেলা মুছে কীভাবে খতরোঁ কে খিলাড়ির রাজা হলেন অবিনাশ?

বিনোদন জগতে এক দশকের দীর্ঘ লড়াই এবং প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জীবনের প্রথম বড় ট্রফিটি জয় করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা অবিনাশ মিশ্র। রোহিত শেঠির সঞ্চালনায় রোমাঞ্চকর স্টান্ট-ভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’-এর ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ঋত্বিক ধনজানি এবং ওরহান আওয়াত্রামানি ওরফে ‘ওরি’-কে পরাজিত করে ট্রফি নিজের নাম করেন তিনি। ৮ অক্টোবর সমাপ্ত হওয়া এই জমজমাট সিজনে জয়ের পাশাপাশি অভিনেতা পুরস্কার হিসেবে জিতে নিয়েছেন ২০ লক্ষ টাকা নগদ, একটি ব্র্যান্ড নিউ মারুতি সুজুকি সুইফট গাড়ি এবং চোখ জুড়ানো ইউরোপ ভ্রমণের দুর্দান্ত সুযোগ।
১৯৯৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ছত্তিশগড়ের রায়পুরে জন্মগ্রহণকারী অবিনাশ গত প্রায় ১০ বছর ধরে হিন্দি টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছেন। অভিনয়ে পা রাখার আগে তিনি ডিস্ক জকি (ডিজে) হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপনেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১৭ সালে ‘শেঠজি’ ধারাবাহিকে ‘বাজিরাও’ চরিত্রের মাধ্যমে টেলিভিশনে তাঁর অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে ‘ইয়ে তেরি গলিয়াঁ’, ‘ইয়ে রিশতে হ্যায় প্যায়ার কে’, ‘নাথ – জেওয়ার ইয়া জঞ্জির’ এবং ‘তিতলি’-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি ঘরের ছেলে হয়ে ওঠেন। তবে ‘বিগ বস ১৮’-এর মঞ্চ তাঁর জনপ্রিয়তাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়, যেখানে তিনি চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিলেন। আর ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’ তাঁকে নিজের খোলস ছেড়ে নতুনভাবে প্রতিভাকে মেলে ধরার সুযোগ করে দেয়।
পুরো সিজন জুড়েই অবিনাশের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। বিশেষ করে জল সংক্রান্ত স্টান্টগুলোতে তাঁর নিখুঁত দক্ষতা শো-এর সঞ্চালক রোহিত শেঠিকেও মুগ্ধ করেছিল। জলের নিচে এক রোমাঞ্চকর স্টান্টে করণ ওয়াহিকে হারিয়ে তিনি সিজনের প্রথম ফাইনালিস্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। গ্র্যান্ড ফিনালেতে অবিনাশ, ঋত্বিক, অরি, করণ ওয়াহি এবং ফারহানা ভাট—এই পাঁচ প্রতিযোগী লড়েছিলেন। তীব্র প্রতিযোগিতার পর করণ ও ফারহানা বাদ পড়লে ফাইনালে লড়াই সীমাবদ্ধ থাকে অবিনাশ, ঋত্বিক ও ওরিকে নিয়ে। হেলিকপ্টার থেকে লাফ দেওয়া, জেট স্কি চালানো এবং সাঁতরে বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে যাওয়া কঠিনতম শেষ স্টান্টটি অবিনাশ সবচেয়ে কম সময়ে সম্পন্ন করেন। জয়ের ঘোষণা আসতেই আবেগে ভেঙে পড়েন অভিনেতা।
বিজয়ী হয়ে অবিনাশ জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বহুবার মনোনীত হয়েছেন, দর্শক হিসেবে বসে থেকেছেন কিংবা ফাইনালে পৌঁছেও ট্রফি হাতছাড়া করেছেন। ১০ বছরের কেরিয়ারে এটি তাঁর প্রথম ট্রফি, যার চেয়ে দুর্দান্ত শুরু আর হতে পারত না। নির্মাতারা তাঁকে কেবল ‘আই ক্যান্ডি’ বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ভাবলেও, তিনি নিজের দক্ষতায় প্রমাণ করে দিলেন যে তিনি ‘লম্বি রেস কা ঘোড়া’। এই মরসুমে ১৩ জন প্রতিযোগী অংশ নিলেও সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে ট্রফিটি নিজের করে নিলেন অবিনাশ মিশ্র।