৯/১১ কায়দায় তেল আবিব উড়িয়ে দেওয়ার ছক! ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে খুনের চেষ্টা ওমানি কো-পাইলটের

তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের ওপর হামলার চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি নাকি ৯/১১-ধাঁচের হামলায় বিমানটি ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বা কোনো বহুতল ভবনে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে গ্রেফতার থাকা আল-হাম্মামি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি ককপিটের ভেতরে ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। এরপর বিমান চালিয়ে স্বাভাবিক অবতরণের ছাড়পত্র নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনো ভবন বা বিমানের সঙ্গে সেটিকে ধাক্কা মারার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম Ynet-এর প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানের আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছনো পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন আল-হাম্মামি। ইজরায়েলে পৌঁছনোর ঠিক আগে এই সময়টি বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল যাতে কর্তৃপক্ষের কাছে ষড়যন্ত্রটি আটকানোর বা শনাক্ত করার সুযোগ না থাকে। বিমানবন্দরে পৌঁছতে না পারলে তেল আবিবের কোনো বহুতল ভবন অথবা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনাও তাঁর ছিল। চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-হাম্মামি বিশেষভাবে ফ্লাইদুবাইকে বেছে নিয়েছিলেন, কারণ এই বিমান সংস্থা তেল আবিবে পরিষেবা দিত। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি এই পরিকল্পনা করেছিলেন। হামলার কয়েক মাস আগে জুন মাসে ইজরায়েল সফর করে তথ্যও সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
তবে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতায় সেই ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়। প্রার্থনা করার কথা বলে আল-হাম্মামি ককপিটের ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালান। এর জেরে বিমানটি মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে ১৬,০০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল, কারণ কো-পাইলট ইঞ্জিন বন্ধ করে রাডার সামনে ঠেলে দিয়েছিলেন। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। ফলে ক্রু সদস্য ও যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে আটকে ফেলেন। পরে ছুটিতে থাকা দুই পাইলটের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন মচ্ছার।
এই ঘটনার পর বাণিজ্যিক বিমান চালকদের নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শের কারণে এর আগে ওমানে বিমান চালানো নিষিদ্ধ ছিল আল-হাম্মামির। তিনি ওমান এয়ারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই নিরাপত্তা ত্রুটি কীভাবে এড়ানো সম্ভব হলো, তা নিয়ে ওমান, UAE এবং ইজরায়েলের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বিদেশি বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।