চিটফান্ড থেকে ব্যাঙ্ক স্ক্যাম— এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর মেগা রেইডে কোণঠাসা বাংলা, কোন বড় জালিয়াতির পর্দাফাঁস করতে চলেছে ইডি?

কলকাতায় ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা তুঙ্গে। ভুবনেশ্বরের একটি ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় বড়বাজার ও পোস্তার একাধিক জায়গায় আচমকা তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি)। ওড়িশার এই আর্থিক দুর্নীতি মামলায় প্রায় ১ হাজার ১০৯ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ‘গুপ্তা পাওয়ার ব্যাংক’ নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ লোন নিয়ে তা সাইফন বা অন্য ফান্ডে সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এর আগে এই একই মামলায় সিবিআই তদন্ত চালালেও, এবার আর্থিক তছরুপের শিকড় খুঁজতে আসরে নেমেছে ইডি। কলকাতা ও ওড়িশা মিলিয়ে মোট ৯টি ভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে এই অভিযান চালানো হয়।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, শুধু বড়বাজার বা পোস্তাই নয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি বিরোধী তল্লাশি জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এর আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কসবা, হিন্দুস্তান পার্ক ও হাইল্যান্ড পার্কের একাধিক বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি। তৃণমূল জমানায় তথ্যসংস্কৃতি দফতরের বিভিন্ন লেনদেনে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। দুর্গাপুজোয় টিকিট দেওয়ার নামে প্রতারণা করে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা এবং মন্ত্রী থাকাকালীন ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পঞ্চসায়রে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার অফিসেও হানা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতার নারকেলডাঙা, নেতাজিনগর এবং রবীন্দ্র সরোবর সহ প্রায় ছ’টি ভিন্ন ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ইডি। একটি চিটফান্ড প্রতারণা মামলার তদন্তে নেমে শহরের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। চিটফান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত কোটি কোটি টাকা তুলে বিভিন্ন বেনামী প্রকল্পে বিনিয়োগ করার অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। পরপর এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর আর্থিক দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইডির এই ধারাবাহিক কড়া পদক্ষেপে আগামী দিনে আরও বড় কোনো রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty