বিজেপিকে হারাতে সেই পুরনো অস্ত্রই শান! উত্তর প্রদেশে ঘুরে দাঁড়াতে কোন মেগা ছক কষল কংগ্রেস?

উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের পুরনো ও পরীক্ষিত ‘বিডিএম’ (ব্রাহ্মণ, দলিত এবং মুসলিম) ফর্মুলাতেই ফের ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস দল। দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে রাজনৈতিক নমনীয়তার নীতি ঝেড়ে ফেলে এবার এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী প্রচার কৌশলে শান দিচ্ছে হাত শিবির। দীর্ঘকাল ধরে হাতছাড়া হওয়া ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধার করতেই তাদের এই নতুন চাল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে কংগ্রেস দলের কৌশলগত জায়গায় একটি মজার মিল রয়েছে— দুজনেই একসময় রাজনৈতিক ময়দানে নির্দিষ্ট ছকে রান তুলেছেন। এখন সময়ের পরিবর্তনে কংগ্রেস আবারও তাদের পুরনো ভোট সংগ্রহের জন্য সেই ঐতিহ্যবাহী ‘বিডিএম’ (ব্রাহ্মণ, দলিত ও মুসলিম) সমীকরণের ব্যাট ব্যবহার করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন নেতৃত্বের কৌশল— রাজ্য সভাপতি আরাধনা মিশ্র মোনা, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইমরান মাসুদ এবং রাজ্য ইনচার্জ রাজেন্দ্র গৌতমের এই ত্রিমুখী পদক্ষেপ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ কংগ্রেস। সম্প্রতি বিধানসভা ভোটের ঠিক আগেই রামপুর খাস কেন্দ্র থেকে তিনবারের বিধায়ক আরাধনা মিশ্র মোনাকে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত রাজ্যের ১৩-১৪ শতাংশ ব্রাহ্মণ, ত্যাগী ও ভূমিহার ভোটারদের জোরালো বার্তা দিতে চাইছে দল। প্রসঙ্গত, ইতিহাসের পাতায় একসময় এই ব্রাহ্মণ-মুসলিম ও দলিত জোটই কংগ্রেসকে ক্ষমতার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল, যা গত কয়েক দশকে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। সেই হারানো দুর্গই এবার পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে হাত শিবির।