শিষ্যের রহস্যমৃত্যুতে উত্তাল বৃন্দাবন! কেলি কুঞ্জ ছেড়ে হঠাৎ কোথায় উধাও হলেন সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজ?

মথুরার বৃন্দাবনে কেলি কুঞ্জ আশ্রমে এক শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃন্দাবনে রসিক দুলারি শরণ দীপক লোধির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিভিন্ন রাজ্য থেকে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলি তাদের সন্তানদের খোঁজ নিতে মথুরার আশ্রমে ভিড় জমাচ্ছেন। আর এই ঘটনার পর থেকেই সবার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— কোথায় আছেন সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজ? শিষ্যের মৃত্যুর পর এই বিতর্কিত কেলি কুঞ্জ আশ্রম নিয়ে মহারাজ কেন এখনও সম্পূর্ণ নীরব রয়েছেন, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ভক্ত মহলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই মহারাজ প্রেমানন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কেলি কুঞ্জে নেই। তাঁর মূল দুটি আশ্রম রয়েছে— একটি মথুরার ওয়ারঘাটে পরিক্রমা মার্গে অবস্থিত কেলি কুঞ্জ এবং অন্যটি যমুনা নদীর ওপারে বেলভানে অবস্থিত যমুনা বিহার কুঞ্জ। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি যমুনা বিহার কুঞ্জেই রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, কেলি কুঞ্জ আশ্রমটি বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে বা ক্যামেরা চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। মহালক্ষ্মী মন্দির থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরের এই আশ্রমের নিরাপত্তা এতটাই কড়া করা হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া কারোর প্রবেশাধিকার নেই এবং নিরাপত্তার খাতিরে সর্বত্র হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা লাগানো রয়েছে।
এদিকে, শিষ্য রসিক দুলারীর মৃত্যুর পর প্রেমানন্দ মহারাজ যমুনা বিহার কুঞ্জ আশ্রম থেকে একটি বার্তা জারি করে জানান যে, এটি সম্পূর্ণ একটি পার্থিব বিষয়। তিনি ভক্তদের এই সমস্ত বিতর্ক ছেড়ে নিজ নিজ ভক্তি ও সেবায় মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহারাজের এক শিষ্য ক্যামেরার আড়ালে জানিয়েছেন যে, মহারাজ গত পাঁচ মাস ধরেই বেলবন আশ্রমে অবস্থান করছেন। বর্তমানে মথুরা পুলিশ পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।