পিএসও-কে মারধরের অভিযোগ! জম্মু-কাশ্মীরে ফেঁসে গেলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়ক ও দলের মুখপাত্র

জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলা থেকে একটি চাঞ্চল্যকর এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ঘটনার খবর সামনে এসেছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের (NC) বিধায়ক আলতাফ আহমেদ ওয়ানি (যিনি আলতাফ কালু নামেই বেশি পরিচিত) এবং দলের মুখপাত্র উমেশ ভাট (যিনি উমেশ তালাশি নামেও পরিচিত)—এই দুই হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিধায়কের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগত সুরক্ষা কর্মকর্তা বা পিএসও (PSO)-র সঙ্গে তাঁরা বচসায় জড়িয়ে পড়েন এবং শারীরিক মারধর করেন। আক্রান্ত পুলিশকর্মীর সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অনন্তনাগ থানায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা ওই পুলিশ অফিসারের সঙ্গে দুই নেতার প্রথমে মৌখিক বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ডিউটিরত অবস্থায় ওই পুলিশকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এফআইআর নম্বর 334/2026 নথিভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন এনসি বিধায়ক আলতাফ কালু। তিনি এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ঘটনার নিজস্ব বর্ণনা দিয়ে কালু দাবি করেছেন যে, ঘটনার সময় ওই পুলিশ কর্মী তাঁর নির্দিষ্ট ডিউটি থেকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার থেকে তথ্য পাওয়ার পর তিনি ওই পুলিশকর্মীকে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। আর ঠিক সেই সময়ই উল্টে ওই পুলিশকর্মী তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারেন, যার ফলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। শুধু তাই নয়, কালু পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে পাল্টা এফআইআর দায়ের করবেন।

এই বিতর্কের জল দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে অনুমান করে এনসি বিধায়ক অবিলম্বে কাশ্মীরের ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (IGP) এবং অনন্তনাগের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (SSP)-এর কাছে পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি দায়িত্বশীল মহলের কাছে আবেদন করেছেন যেন কোনো রকম প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই কোনো একপেশে বা বিভ্রান্তিকর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা না হয়। বর্তমানে এই স্পর্শকাতর মামলাকে কেন্দ্র করে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে এবং পুলিশি তদন্তের ফলাফলের দিকেই সকলের নজর রয়েছে।