এশিয়ান গেমসে যুবরাজের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলেন অভিষেক! ফাইনালে পাকিস্তানকে উড়িয়ে ভারতের সোনা জয়ে বিধ্বংসী ইনিংস ওপেনারের

২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ক্রিকেট ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক অবিশ্বাস্য ও বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে সোনা জেতাতে মুখ্য ভূমিকা নিলেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। ফাইনালে ব্যাট হাতে নামধাম কাঁপিয়ে তিনি মাত্র ২৮ বলে ৬১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। তাঁর এই ঝোড়ো ইনিংসে সাজানো ছিল ৭টি বিশাল ছক্কা ও ৩টি চার, যার স্ট্রাইক রেট ছিল নজরকাড়া ২১৭.৬৮। এই ৭টি ছক্কা হাঁকানোর সুবাদেই অভিষেক ২০১২ সালে আমেদাবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করা যুবরাজ সিংয়ের এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কা মারার ঐতিহাসিক রেকর্ডের পাশে নিজের নাম লিখিয়ে সমানাধিকার অর্জন করলেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই ২০২৫ সালে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের মঞ্চেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি।
এই ঐতিহাসিক ইনিংসের সুবাদে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেকের মোট ছক্কার সংখ্যা গিয়ে ঠেকলো ১৪টিতে। এর ফলে তিনি টপকে গেলেন ভারতের প্রাক্তন সফল ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির ১১টি ছক্কার রেকর্ডকে। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণ তুর্কি এখানেই থেমে থাকেননি; টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক পঞ্জিকাবর্ষে কোনো ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর নিজের পুরোনো রেকর্ডকেও তিনি আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ২০২৬ সালে তাঁর সর্বমোট ছক্কার সংখ্যা এখন দাঁড়াল ১০৪টিতে। এর আগে ২০২৫ সালে তিনি ১০৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। বর্তমান বছরে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তরুণ সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী, যিনি ৯০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২২ সালে সূর্যকুমার যাদব ৮৫টি ছক্কা মেরেছিলেন।
এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে দ্রুততম ১০০ ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রেও এক অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন অভিষেক। মাত্র ৬৫১ বল খেলে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই তালিকায় তাঁর ওপরে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিস্ফোরক অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল রয়েছেন, যিনি ২০১৯ সালে মাত্র ৫৮৯ বলে এই অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছিলেন। এছাড়াও, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সামগ্রিকভাবে ৪শ ছক্কার মাইলফলক ছুঁতে অভিষেকের লেগেছে ৩,৫১৩ বল। এই বিশেষ ক্যাটাগরিতেও তিনি আন্দ্রে রাসেল (৩,০২৭ বল) ও ক্রিস গেইলের (৩,৫১৫ বল) পরেই নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন।
এদিনের ফাইনালে ভারতের মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৬/৬, যেখানে অভিষেকের ৬১ রান ছাড়াও মিডল অর্ডারে তিলক ভার্মার ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে আহমেদ দানিয়াল ও আরাফাত মিনহাস দুটি করে উইকেট নিলেও ভারতীয় ব্যাটারদের অপ্রতিরোধ্য ঝড়ে শেষরক্ষা হয়নি। এশিয়ান গেমসের এই হাইভোল্টেজ মেডেল ম্যাচে পাকিস্তানের বোলারদের দিশেহারা করে ভারতের ঐতিহাসিক সোনা জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে রাখবে।