৫২ ও ৫৭ নম্বর রুটে চলল বিশেষ প্রদর্শনী! বাস পরিবহণের ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায় যোগ করল ‘বাস যাত্রা’

কলকাতার বাস পরিবহণের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, দীর্ঘ ইতিহাস এবং সময়ের সঙ্গে তার বিবর্তনকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি গণপরিবহণ ব্যবস্থায় নারী শক্তির অসামান্য অবদানকে কুর্নিশ জানাতে আয়োজিত হলো বিশেষ ‘বাস যাত্রা’ অনুষ্ঠান। ‘কলকাতা বাস-ও-পেডিয়া’ সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহণ দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী শ্রী অর্জুন সিং।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পথচলা শুরু করা ‘কলকাতা বাস ও পেডিয়া’ মূলত কলকাতার বাস পরিবহণের সোনালী ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সাল থেকে প্রতি বছর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই ‘বাস যাত্রা’র আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে এবারের বাস যাত্রার মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাস পরিবহণ ক্ষেত্রে কর্মরত নারীদের অবিস্মরণীয় অবদান। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগম (WBTC)-এর পাঁচজন দক্ষ মহিলা কন্ডাক্টর এবং বিভিন্ন বেসরকারি বাস অপারেটরের সঙ্গে যুক্ত নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মান। পুরুষতান্ত্রিক এই পেশায় তাঁদের কঠোর পরিশ্রম, সাহসিকতা এবং দায়িত্ববোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এবারের বাস যাত্রা উপলক্ষে শহরের ঐতিহ্যবাহী ৫৭ এবং ৫২ নম্বর রুটের বিশেষ কিছু বাসে একটি আকর্ষণীয় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ওই বাসগুলির অন্দরে কলকাতার গণপরিবহণে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা, তাঁদের চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা এবং একটি আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক বা নিরাপদ গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা ফুটিয়ে তোলা হয়। আয়োজকদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, কলকাতার বাস পরিষেবার নেপথ্যে থাকা মহিলাদের না-বলা গল্প ও তাঁদের আত্মত্যাগকে মূলস্রোতে নিয়ে আসা। একই সঙ্গে শহরের প্রাচীন বাস-ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গণপরিবহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও এই মঞ্চ থেকে জোরালো বার্তা দেওয়া হয়। মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতি এবং বিশিষ্টজনদের এই যৌথ উদ্যোগ কলকাতার পরিবহন ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।