ওমান নিষিদ্ধ করলেও কীভাবে ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে পৌঁছল কো-পাইলট? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামিকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আল-কায়েদা জঙ্গিদের ছবি শেয়ার করা, উগ্রবাদী ওয়েবসাইটে নিয়মিত যাতায়াত এবং তাঁর গভীর ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে আগে থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এত গুরুতর অভিযোগ থাকার পরেও কীভাবে তিনি ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই বিমানের মতো একটি সংবেদনশীল ফ্লাইটের ককপিটে দায়িত্ব পেলেন?
সিবিএস নিউজ এবং সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-হাম্মামির বাবা ওমানি এবং মা সিরিয়ান। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেই কাটিয়েছেন। ওমান সরকার তাঁর নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করলেও, তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করেই তিনি ইজরায়েলগামী ফ্লাইটে পাইলট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর শর্তানুযায়ী, ইজরায়েলের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশের পাইলটদের তেল আভিবে বিমান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না।
ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার মাত্র আট মাস আগে আল-হাম্মামি ওমান এয়ার এবং মরক্কোর জাতীয় বিমান সংস্থা ‘রয়্যাল এয়ার মারোক’-এ কাজ করেছেন। ওমান এয়ারে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের জেরে বিমান চালানো থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়েছিল। তাঁকে গ্রাউন্ড ডিউটি বা ডেস্কের কাজে নিযুক্ত করা হলে তিনি সেই কাজ ছেড়ে দেন এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের দিকে ওমান এয়ার ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কঠোর হেফাজতে রয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে এই কো-পাইলটের “ইসলামি উগ্রবাদী মতাদর্শে” দীক্ষিত থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বিমানটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্র্যাশ করানোর উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এয়ারলাইনসগুলির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।