মিঠি নদী কেলেঙ্কারিতে বড় বিপাকে ডিনো মোরিয়া! মুম্বই পুলিশের ৮ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে যা জানা গেল

বলিউড অভিনেতা ডিনো মোরিয়াকে ঘিরে ফের দানা বেঁধেছে তীব্র আইনি জটিলতা। মুম্বইয়ের হাইপ্রোফাইল মিঠি নদী ড্রেজিং কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে নড়েচড়ে বসল মুম্বই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা বা ইওডব্লিউ (EOW)। গত ২ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি মামলায় অভিনেতা ডিনো মোরিয়াকে বান্দ্রার নিজ বাসভবন থেকে আটক করে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একটানা আট ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে সাময়িকভাবে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও, এই ঘটনায় বিনোদন জগতে শোরগোল পড়ে গেছে।

ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে ডিনো মোরিয়ার বিরুদ্ধে?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুম্বইয়ের মিঠি নদীর পরিচ্ছন্নতা, পলি অপসারণ (ড্রেজিং) এবং সামগ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই এই বিশাল আর্থিক দুর্নীতির জাল ছড়ানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এই প্রকল্পের চুক্তিগুলিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক তহবিল লেনদেন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এই পুরো জালিয়াতির ফলে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)-এর প্রায় ৬৫.৫৪ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

যদিও জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে আপাতত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ফের তলব করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পরবর্তী হাজিরা বা জিজ্ঞাসাবাদের দিনক্ষণ এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি।

পুরনো যোগসূত্র এবং ইডি-র নজরদারি

এই মামলায় ডিনো মোরিয়ার নাম অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এর আগে গত বছরের জুন মাসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED) এই একই মামলার सिलसिलेে অভিনেতার মুম্বইস্থিত বাড়িতে টানা ১৪ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন তল্লাশি চালায়। সেই সময় মুম্বই ও কোচি সহ মোট ১৪টি ভিন্ন জায়গায় একযোগে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এমনকি ডিনোর ভাইয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ঠিকাদার ও দালালের বাসমেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

তদন্তে নেমে ইওডব্লিউ প্রায় ১.৮ মিলিয়ন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থের একটি বড়সড় সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পেয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছিল ‘ইউবিও রাইডেজ’ (UBO Ridez) নামক একটি কোম্পানিতে, যেখানে ডিনো মোরিয়ার ভাই সান্তিনো মোরিয়া একজন পরিচালক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত কেতন কদমের হাত দিয়েই এই অর্থ লেনদেন হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। মেগা কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোর পর ডিনো মোরিয়ার আইনি লড়াই যে আরও দীর্ঘ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।