মাত্র ২৫ লাখ টাকার এলআইসি পলিসির লোভ! স্ত্রীকে লোডিং অটো দিয়ে পিষে মারল পাষণ্ড স্বামী

সাধারণ একটি পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছিল রহস্য। আর শেষ পর্যন্ত তদন্তে নেমে পুলিশ যা উদ্ধার করল, তা শুনে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে মাত্র ২৫ লক্ষ টাকার এলআইসি (LIC) এবং অন্যান্য বীমার পলিসির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নিজের স্ত্রীকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় খুন করার এক ভয়ঙ্কর চক্রান্ত ফাঁস করল পুলিশ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সরাসরি যুক্ত তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে মূল অভিযুক্ত স্বামী সহ তার এক সহযোগী এখনও পলাতক।

ঠিক কী ঘটেছিল জবলপুরে?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর জবলপুরের পাটন থানা এলাকায় ৩০ বছরের এক গৃহবধূ কবিতা চৌধুরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে একটি সাধারণ পথ দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। পুলিশকে জানানো হয়েছিল, কবিতা যখন নিজের স্কুটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময় একটি বেপরোয়া লোডিং অটো তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কিন্তু ঘটনার দিনটির পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারী অফিসারদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। এরপরই ঘটনার গভীর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রে মিলতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এটি আদৌ কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার খুন, যাকে নিখুঁতভাবে দুর্ঘটনার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

টাকার লোভে সুপারি কিলার!

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত কবিতার স্বামী প্রয়াস পাণ্ডে তার স্ত্রীর নামে থাকা ২৫ লক্ষ টাকার এলআইসি পলিসি এবং অন্যান্য বেশ কিছু ইনস্যুরেন্সের মোটা অঙ্কের টাকা হাতানোর ফন্দি আঁটে। এই উদ্দেশ্যেই সে তিন জন দুষ্কৃতীকে সুপারি দিয়ে স্ত্রীর খুনের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা মতো ঘটনার দিন অভিযুক্তরা পাটন এলাকার কন্তोरा-রানিতাল অঞ্চলে দীর্ঘক্ষণ ঘাপটি মেরে ওত পেতে বসেছিল। লাল রঙের স্কুটিতে কবিতা ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময়ই ঘাতক লোডিং অটোটি তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে সজোরে ধাক্কা মারে এবং পিষে দিয়ে পালিয়ে যায়। বীমার লোভের বশে এহেন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা জবলপুর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পলাতক স্বামীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।