‘বিজেপি চাইছে এক দেশ, এক পার্টি করতে!’ মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চ্যালেঞ্জ সিজেপি প্রধানের

ভারতের নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া তথা এসআইআর (SIR)-এর বিরোধিতায় এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুম্বই। দাদরের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে বিশাল প্রতিবাদ ও ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই জনসভা থেকে সরাসরি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক।
শিবাজি পার্কে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মেলা
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে হওয়া এই বিক্ষোভে সিজেপি-র পাশাপাশি হাত মেলায় শিবসেনা (ইউবিটি), মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (MNS), এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) ও এআইএসএফ (AISF)-এর মতো দলগুলো।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে এদিন শিবাজি পার্কের মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত থেকে সিজেপি-র এই লড়াইকে সমর্থন জানান বিশিষ্ট অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, অভিনেত্রী শাবানা আজমি, প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দাদলানি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তথা সমাজকর্মী তুষার গান্ধী।
মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ও প্রশাসনের সমালোচনা
দাদর স্টেশন ও শিবাজি পার্ক চত্বরে মুম্বই পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করেই হাজার হাজার আন্দোলনকারী জাতীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভস্থলে জড়ো হন। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক বলেন, “ক্ষমতা থাকলে শিবাজি পার্কে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানানো এই আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়ে দেখাক রাজ্য সরকার।” একইসঙ্গে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “এক দেশ, এক নির্বাচনের মুখোশে আসলে বিজেপি দেশে ‘এক দেশ, এক পার্টি’ বা একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে।”
তবে মুম্বই পুলিশের তুলনামূলক সংযত ভূমিকার প্রশংসা করলেও দিল্লি পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন দীপক। তাঁর অভিযোগ, অতীতে নিট (NEET) পরীক্ষা দুর্নীতি কাণ্ডে এবং সাম্প্রতিক দিল্লি বিক্ষোভে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে।
সিজেপি-র মূল দাবিগুলি কী?
১. সিইসি-র পদত্যাগ ও তদন্ত: অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও এফআইআর দায়ের করতে হবে। ২. এসআইআর তালিকা স্থগিত: বিতর্কিত এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মূল ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।
স্থানীয় স্তরে শব্দদূষণ বা অন্যান্য আপত্তি সত্ত্বেও সিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এবং সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।