দিল্লির দূষণ রোধে বড় কড়া পদক্ষেপ! ১ নভেম্বর থেকেই কি দ্বিগুণ হতে চলেছে গাড়ির পার্কিং ফি?

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গেই ফের একবার গ্যাসচেম্বারে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে জাতীয় রাজধানী দিল্লির। এই মারাত্মক বায়ু দূষণ রোধে এবার অভিনব অথচ কঠোর এক পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন নিয়মের ফলে দিল্লিতে পার্কিংয়ের খরচ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে চলেছে। চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে দিল্লি মেট্রোর পার্কিংকে এই বর্ধিত शुल्কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের মূল ভাবনাটি সোজা—গাড়ির পার্কিং ফি যতো বেশি হবে, মানুষ ততো কম ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরোবেন। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমলে ট্রাফিক জ্যাম কমবে এবং তার হাত ধরে মারাত্মক দূষণের মাত্রাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে দূষণ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে ৫০ শতাংশ কর্মচারীকে বাড়ি থেকে কাজ (Work from Home) করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শুধু পার্কিংয়ের দাম বাড়িয়ে কি আদৌ ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো সম্ভব?
আগের অভিজ্ঞতা কী বলে?
দিল্লিতে এই ধরনের পদক্ষেপ অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও শীতের মৌসুমে পার্কিং ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ২০২৫ সালেও চরম দূষণের মাঝে নতুন দিল্লি এলাকায় পার্কিংয়ের দাম এক লাফে দ্বিগুণ করা হয়েছিল। সেসময় সাধারণ সারফেস পার্কিংয়ে চার চাকার ফি প্রতি ঘণ্টায় ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং দু চাকার ফি ১০ থেকে ২০ টাকা করা হয়েছিল। বাস বা বড় গাড়ির ফি ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে হয়েছিল ৩০০ টাকা প্রতি ঘণ্টা।
কিন্তু এত কিছুর পরেও পার্কিং স্পেসগুলোর গাড়ির ভিড় বা দখলদারিতে উল্লেখযোগ্য কোনো তফাত দেখা যায়নি। পরিবেশ ও ভূবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ রাজেশ সলমন পলের মতে, পার্কিংয়ের ফি বাড়িয়ে দিলেই যে মানুষ সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দেবেন—এমন সরল সমীকরণ সবসময় কাজ করে না। যতক্ষণ না উন্নত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততক্ষণ এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।