কংগ্রেস শিবিরে ফের বড় ধাক্কা! গেহলটের ঘনিষ্ঠ নেতার দল ছাড়ার গুঞ্জনে চরম অস্বস্তিতে হাত শিবির

জাতীয় রাজনীতিতে যখন রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে একজোট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ই রাজস্থান কংগ্রেস শিবিরে দেখা দিল এক মারাত্মক অভ্যন্তরীণ সংকট। পাঞ্জাবের পর এবার রাজস্থানেও দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর প্রাক্কালে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের ঘনিষ্ট সহযোগী ও প্রাক্তন মন্ত্রী বিশ্বেন্দ্র সিংয়ের দলত্যাগ এবং রাজ্য সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারার বিরুদ্ধে খোলাখুলি বিদ্রোহ কংগ্রেস হাইকমান্ডের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
নির্বাচনে পরাজয় থেকে জন্মদিনের উদযাপন পণ্ড—কেন বাড়ছে কোন্দল?
সম্প্রতি ভরতপুর ও দীগ জেলার পৌরসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়। মুখ্যমন্ত্রী ভরতপুরেই বিজেপির কাছে সমস্ত পৌরসভা হাতছাড়া হওয়ার জন্য সরাসরি রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারা এবং তাঁর অনুগত জেলা সভাপতিদের দায়ী করেছেন বিশ্বেন্দ্র সিং। তাঁর অভিযোগ, দলের প্রকৃত কর্মীদের কোণঠাসা করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের টিকিট দেওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার গোবিন্দ সিং দোতাসারার জন্মদিনের দিনই এই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। জয়পুর থেকে কিষাণগড় যাওয়ার পথে নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানালেও, বিশ্বেন্দ্র সিংয়ের তীব্র প্রতিবাদের কারণে সেই উদযাপন রীতিমতো বিঘ্নিত হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক বিস্ফোরক আক্রমণ
ফেসবুকে পরপর দুটি আক্রমণাত্মক পোস্ট করে রাজ্য সভাপতি দোতাসারার বিরুদ্ধে দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরেছেন বিশ্বেন্দ্র সিং। প্রথম পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভরতপুর ও দীগে কংগ্রেসের বিপর্যয়ের জন্য কে দায়ী?” এবং সরাসরি রাজ্য সভাপতিকে কাঠগড়ায় তোলেন।
অন্যদিকে, তাঁর দ্বিতীয় পোস্টে আরও গুরুতর অভিযোগ এনে বিশ্বেন্দ্র দাবি করেন, ২০১৮ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোতাসারার পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, REET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দুর্নীতি এবং ওবিসি সার্টিফিকেট নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে দোতাসারার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।
নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
এই বিস্ফোরক অভিযোগ এবং দল ছাড়ার জল্পনার বিষয়ে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারা অবশ্য ঠান্ডা মাথায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বিশ্বেন্দ্র সিংয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, “সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, আমরা এর মাধ্যমে কারও পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো পরিবেশ তৈরি করতে পারি না।” তবে পঞ্চায়েত ভোটের আগে এই প্রকাশ্য কোন্দল যে কংগ্রেসের সংগঠনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।